জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “আজ থেকে আমি আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। আমাকে তো হামলা করা হয়। তারা একটা জাস্টিফিকেশন দিয়েছে যে আমি নাকি বেশি কথা বলি। তাই আজ থেকে আমি আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। পুরো বাংলাদেশে দেখি উনারা কতটুকু বাড়তে পারে, কতটুকু যেতে পারে। আমরা সেই মাত্রাটা দেখব।”
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘অগ্নিঝরা জুলাই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘‘আগের রাতেই ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযোগে একটি নাম সংশোধনের বিষয় রয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সংশোধিত এফআইআর আজই পাওয়া যাবে।’’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে সরকার যেন বিচার নিশ্চিত করে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি আলিফের চোখটা ফিরিয়ে দিতে পারবেন না, কিন্তু অন্তত বিচার নিশ্চিত করুন। আমরা বাংলাদেশে আর কোনো সহিংস রাজনীতি দেখতে চাই না।”
সিলেটে বিজিবির পাঁচ প্লাটুন মোতায়েনের পরও হামলার ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসের এই রাজত্ব প্রতিহত করব। গণভোটের রায়, সংস্কার ও বিচারের পক্ষে ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় দেশের সব গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “হবিগঞ্জ থেকে গোলাপগঞ্জ পর্যন্ত যা দেখছি, তাতে দেশকে আবারও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। সরকার যদি সন্ত্রাসের পথে হাঁটে, তাহলে জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে। জনগণের অধিকারের পক্ষে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “সরকার সংস্কার চায় না এবং নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থানও চায় না। পুরোনো কায়দায় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর হামলা করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে হামলা হয়েছিল, একই কায়দায় এখন আমাদের গাড়িবহরেও হামলা করা হচ্ছে। এর জবাব বাংলাদেশের জনগণ দেবে।”
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের বিষয়েও কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরও হঠাৎ তা স্থগিত করা হয়েছে।
কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “আমার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যাতে আমি কোনো ব্যক্তির নাম উচ্চারণ না করি। তবে আপনারা বুঝছেন কে ঘটনাটা ঘটিয়েছে। এটা ছাড় দেবেন না। শাবিপ্রবিতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার, সাবেক সমন্বয়ক আবু সালেহ মো. নাসিম, শাবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন, ইনকিলাব মঞ্চের শাবিপ্রবি আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আজাদ শিকদার এবং ছাত্রশক্তির নেতারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব রিয়াজ হোসেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









