সমাজে মৌলবাদী ও উগ্রবাদী (ফেনাটিক) প্রবণতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, ‘‘এই প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।’’
সোমবার (৩ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের আয়োজিত ৬৯তম আবৃত্তি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘সমাজের মধ্যে একটা মৌলবাদী, একটা ফেনাটিক ট্রেন্ড ডেভেলপ করছে। এই যে ফেনাটিজম এটা একটা মারাত্মক জিনিস। আমাদের এখানে ডেমোক্রেসির মূল কথাটা হচ্ছে—হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই মিলে এই রাষ্ট্রে বাস করবে। রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য তৈরি করা যাবে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘সরকারকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পাশাপাশি সমাজে বাড়তে থাকা উগ্রবাদী প্রবণতাও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তার ভাষায়, সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; রাষ্ট্র ও সমাজকে পুনর্গঠনের জন্য সময়, ধৈর্য ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আজকে একটা অসাম্প্রদায়িক এবং কল্যাণকর রাষ্ট্র, একটা লিবারেল ডেমোক্রেসির ফিলোসফির আওতায় আমাদের গড়তে হবে। এটাই আজ বিশ্বের একমাত্র পথ। এর বাইরে যে পথেই যাওয়া হবে, সেটাই মানুষের মধ্যে বিভাজন ও ক্ষতি তৈরি করবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে রাষ্ট্র বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে হবে।’’ পাশাপাশি সমাজে সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, ‘‘আবৃত্তি কেবল প্রচার পাওয়ার বা বিশুদ্ধ ভাষা চর্চার মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের কণ্ঠের নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক শব্দ প্রয়োগ শিখতে সাহায্য করে। তাই তরুণ প্রজন্মকে সুশৃঙ্খল ও মার্জিত করার লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আবৃত্তি চর্চা বাধ্যতামূলক করা এবং এ খাতে সরকারি বরাদ্দ ও সহযোগিতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।’’ তাছাড়া বিদেশি শিল্পীদের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে দেশের নিজস্ব শিল্পী ও আবৃত্তিকারদের পেশাগত সুযোগ দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহম্মেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন, জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। কবি সম্মাননা পান যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার ও আবৃত্তি শিল্পী সম্মাননা পান রেজাউল হোসেন টিটো।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









