রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে ‘দায়সারা ও প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তাঁর স্থায়ী বহিষ্কার ও তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের প্রায় দুই বছর পর প্রশাসন শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমিত করা হয়েছে।
তবে এই শাস্তিকে অপর্যাপ্ত দাবি করে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, একজন শিক্ষক শিক্ষাদানে অযোগ্য প্রমাণিত হওয়ার পরও কীভাবে প্রায় এক দশক পদে বহাল থেকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করেছেন। তার অযোগ্যতার সময়ে নেওয়া বেতন-ভাতা এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের আর্থিক ক্ষতির বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। পাঁচ বছর পর অযোগ্য প্রমাণিত একজন ব্যক্তি কীভাবে আবার শিক্ষাদানে যোগ্য হয়ে উঠবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন শিক্ষার্থীরা।
তাঁদের অভিযোগ, প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও সুপারিশ প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশেরও দাবি জানান তাঁরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কোনো ব্যক্তির প্রতি প্রতিহিংসা থেকে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে প্রয়োজনীয় নৈতিকতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড থেকেই তাঁরা স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি করছেন।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি সিন্ডিকেটের এখতিয়ারভুক্ত। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পুনর্বিবেচনা করতে হলে তা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই করতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় দুর্নীতি, অর্থ কেলেঙ্কারি, অযোগ্যতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে সুজন সেনকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









