বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জিয়া পরিষদ।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) এক শুভেচ্ছা বার্তায় জিয়া পরিষদ ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ শুভেচ্ছা জানান।
শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। স্বাধীনচেতা পররাষ্ট্রনীতি, মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস এবং ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত জাতি গঠনের দর্শনের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই দলটিকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে।
বার্তায় আরও বলা হয়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি সংকটের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে দলের নেতৃবৃন্দের অনুরোধে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিজয় আসে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও দলটি সরকার পরিচালনা করে।
পরবর্তীতে ওয়ান ইলেভেনের সময় নানা ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে হাসিনার ফ্যাসিজমের যাত্রা শুরু হয়। ক্ষমতা প্রাপ্তির পথ সুগম করতে নির্বাচনের আগেই শহিদ জিয়ার দুই সন্তানকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ও নির্যাতন করে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা হয়। এদিকে গুম ও খুনের নির্মমতা উপেক্ষা করে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির অকুতোভয় নেতাকর্মীগণ জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে লাগাতার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন।
বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা, জেল-জুলুম-হুলিয়া নির্বিচারে চলতে থাকে। শহিদ জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো বিনা চিকিৎসায় বিদেশে মৃত্যুবরণ করেন। বেগম জিয়াকে এক প্রহসনের বিচারে জেলে প্রেরণ করা হয়। তারপরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিএনপি, ছাত্রদল ও দলটির অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বিএনপির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তায় আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দল ও দেশের মানুষ শোকাহত হয়। তার অবর্তমানে দলের নেতৃত্ব তারেক রহমানের ওপর অর্পিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সহযোগী দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
শুভেচ্ছা বার্তার শেষাংশে গণতন্ত্র, দেশপ্রেম, সংগ্রাম ও আধিপত্যবাদবিরোধী ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং দেশের জনগণকে জিয়া পরিষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে ‘সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন’ জানানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









