যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠন যবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির (যবিপ্রবিসাস) 'বর্ষসেরা ফিচার লেখক' সম্মাননা পদক পেয়েছেন দৈনিক এদিন পত্রিকার যবিপ্রবি প্রতিনিধি সাব্বির রহমান রাব্বীল।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে যবিপ্রবিসাসের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর এ সম্মাননা তুলে দেন। সাব্বির রহমান রাব্বীল বর্তমানে যবিপ্রবিসাসের একজন সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী।
উক্ত অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা প্রতিবেদক, বর্ষসেরা উদীয়মান প্রতিবেদক এবং বর্ষসেরা ফিচার লেখকদের নাম ঘোষণা করা হয়। 'বর্ষসেরা প্রতিবেদক' পুরষ্কার পেয়েছেন দৈনিক ঢাকা মেইল এর যবিপ্রবি প্রতিনিধি রকিবুল হাসান তারেক এবং আরটিভি চ্যানেলের যবিপ্রবি প্রতিনিধি আলফাজ হোসেন আরবী। 'বর্ষসেরা উদীয়মান প্রতিবেদক' পুরষ্কার পেয়েছেন ডেইলি ক্যাম্পাসের যবিপ্রবি প্রতিনিধি সাব্বির আহমেদ। 'বর্ষসেরা ফিচার লেখক' পুরষ্কার পেয়েছেন দৈনিক এদিন পত্রিকার যবিপ্রবি প্রতিনিধি সাব্বির রহমান রাব্বীল এবং চ্যানেল আই টেলিভিশনের যবিপ্রবি প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম। এছাড়া যবিপ্রবিসাসে যুক্ত হওয়া নবীন সাংবাদিকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সংগঠনটির সদস্যরা।
বর্ষসেরা ফিচার লেখকের পুরস্কার গ্রহণের পর সাংবাদিক সমিতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাব্বির রহমান রাব্বীল বলেন, এমন সম্মাননা আমাদের কাজ করার ক্ষেত্রে উৎসাহ যোগাবে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা ক্ষমতায়ন কিংবা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোনো জায়গা না। তবে ক্যাম্পাসের সমস্যা, আয়োজন আর অর্জন নিয়ে লিখতে বেশ ভালো লাগে বলেই এখানে আসা। প্রতিনিয়ত কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের নানা অভিজ্ঞাতার সম্মুখীন হতে হয় যা আমাদের দক্ষ করে তুলে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও যবিপ্রবিসাসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “একটি দেশের জন্য সাংবাদিকতা যেমন পিলারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তেমনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সাংবাদিক সমিতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ পিলার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিষয় সম্পর্কে আমাদের পক্ষে সবসময় জানা সম্ভব নয়, এটাই স্বাভাবিক। তাই আমি প্রত্যাশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো আপনারা আমাদের সামনে তুলে ধরবেন। আমরা সেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আপনারা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখবেন। এভাবেই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে পারব।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি উন্নয়নমুখী পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিক সমিতিসহ সবার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিক সমিতি ক্যাম্পাসের কার্যক্রম, অর্জন, সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান বলেন, “সংবাদকর্মীদের জীবন নানা চ্যালেঞ্জ ও সংগ্রামে পরিপূর্ণ। সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ হিসেবে সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরে।”
তিনি যবিপ্রবিসাসের দীর্ঘ আট বছরের পথচলার কথা উল্লেখ করে সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতেও সৎ, বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে যবিপ্রবিসাসের সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি ও সুনাম বৃদ্ধিতে যবিপ্রবিসাস সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য, অর্জন, গবেষণা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যবিপ্রবিসাসের প্রতিটি সদস্য তার কলম চালিয়ে যাবে। অন্যায়কারী ব্যক্তি যেই হোক, তার বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিক সমিতি কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং অন্যায়, দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সামনে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে সাংবাদিক সমিতি সদস্যরা তাদের কলম চালিয়ে যাবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আয়োজনকে সাফল্যমণ্ডিত করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ সকল অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যবিপ্রবিসাসের পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা ও পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









