দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘‘যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা পর্দার অন্তরালে এক হচ্ছে। কোনো সুপ্ত কিংবা গুপ্ত সংগঠন যাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত কর্মসূচি ব্যর্থ করে দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’’
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবেও ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই বাংলাদেশকে সফল করতে এবং গত জুলাই আন্দোলন ও দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সহকর্মীদের আত্মত্যাগের মূল্য দিতে হলে বর্তমান সরকারকে সফল করতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘সবাইকে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। নিজেদের বাসগৃহের চারদিক দুর্গের মতো শক্ত করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রকারী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারকে কোনো ধরনের অস্বস্তিতে ফেলতে না পারে।’’
নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করে গেছে, যারা নতুন করে রাজনীতিতে এসেছে তাদের অনেকে হয়তো সেটিকেই রাজনীতির মূল সংস্কৃতি মনে করছেন। কিন্তু এটি রাজনীতির মূল সংস্কৃতি হতে পারে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘নতুন বন্দোবস্তের কথা বলব, অথচ প্রকৃত ফ্যাসিস্টের ভাষায় কথা বলব, প্রতিমুহূর্তে অন্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করব এবং বড়দের অসম্মান করব, এটি কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না। এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের মাটির সংস্কৃতি নয় এবং বিএনপিও এই সংস্কৃতি ধারণ করে না।’’
বিএনপির প্রতিষ্ঠা ও দলের নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘‘৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির যে বীজ বপন করেছিলেন, সেটি আজ মহিরুহে পরিণত হয়েছে। আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নিয়ে যে গর্ব করা হয়, সেই গণতন্ত্রের ভিত্তিভূমি রচনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ এবং বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, দেশের মানুষ ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা সেই গর্বিত পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার বহন করছেন, যারা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।’’
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়, এই মূলমন্ত্র নিজের মধ্যে ধারণ করেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন বলে জানান।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। এই সরকারকে সফল করার জন্য বিএনপির প্রতিটি কর্মীর দায় রয়েছে। যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। সমাবেশের শুরুতে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
সমাবেশ শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে শুরু হয়ে দড়াটানা, চিত্রা মোড়, চৌরাস্তা মোড়, জেল রোড ও চভোলাট্যাংক রোড প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে গিয়ে শেষ হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









