গণিতের জগতে অসাধারণ সাফল্যের জন্য পরিচিত একজন গবেষক হং ওয়াং এবার আলোচনায় এলেন ভিন্ন কারণে। ফিল্ডস পদক গ্রহণের অনুষ্ঠানে তার পরনে ছিল কালো আলেকজান্ডার ম্যাককুইন ব্লেজার, সঙ্গে কার্টিয়েরের নেকলেস ও গোলাপি সোনার আংটি। তার পোশাক ও গয়না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—গণিতবিদদের কি নির্দিষ্ট ধরনের চেহারা বা জীবনযাপন থাকা উচিত?
৩৫ বছর বয়সী হং ওয়াং গণিতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ফিল্ডস পদক পাওয়া তৃতীয় নারী এবং প্রথম চীনা নাগরিক। পুরস্কার গ্রহণের পর তার নেকলেসটি পরদিনই বিক্রি হয়ে যায় বলে দ্য স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার আধুনিক ও পরিপাটি পোশাকের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, ওয়াংয়ের উপস্থিতি গণিতবিদ সম্পর্কে প্রচলিত ‘সাদামাটা’ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিক্ষাবিদের বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পোশাক ও গয়না পরা কতটা মানানসই। অন্যরা এর জবাবে বলেছেন, একজন গণিতবিদকে তার পোশাক নয়, কাজ ও অর্জন দিয়েই বিচার করা উচিত।

দক্ষিণ চীনের গ্রামীণ গুয়াংসি অঞ্চলে জন্ম ওয়াং মাত্র ১৬ বছর বয়সে পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। গণিত পড়ার আগ্রহ থাকলেও সুযোগ না পেয়ে তিনি প্রথমে ভূবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। পরে এক বছর গণিতের উচ্চতর বিভিন্ন কোর্স করার পর বিভাগ পরিবর্তন করেন।
স্নাতক শেষে ফ্রান্সের ‘একল পলিটেকনিক’ থেকে মাস্টার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন তিনি।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াং ও তার এক সহকর্মী ত্রিমাত্রিক কাকেয়া অনুমান নিয়ে ১২৭ পৃষ্ঠার একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত এই সমস্যার সমাধানে তাদের কাজ গণিতজগতে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ফ্রান্সের ‘ইনস্টিটিউট দে হোট এত্যুদ সিয়েন্তিফিক’-এ অধ্যাপনা করার পাশাপাশি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়ান ওয়াং। গণিতের বাইরে তার পছন্দ অ্যানিমে দেখা, টেবিল টেনিস ও ফেন্সিং।
ফিল্ডস পদক পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে তার সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, “আমি সম্মানিত। সবাই যেন নিজের ভালোবাসার কাজ করার সাহস পায়।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









