মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ‘সীরাতুন্নবী (সা.) বিষয়ক আলোচনা’ এবং দু’দিনব্যাপী ‘সিরাহ্ ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে দু’দিনব্যাপী এই আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম ইকবাল আজিম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্বভাব, চরিত্র, পোশাক ও ব্যবহারিক জীবন সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে হবে। মহান আল্লাহতায়ালা কেন তাকে সফল করেছেন এবং তার জীবনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল, তা গভীরভাবে উপলব্ধি করে মানবজীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। আল্লাহতায়ালা নবীজি (সা.)-কে অসভ্য জাতিকে সভ্য করার জন্য এক মহান দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। নবীজি (সা.) আইয়ামে জাহেলিয়ার অন্ধকার ও চরম বিশৃঙ্খল সমাজকে মাত্র ২৩ বছরের মেয়াদে এক পরম শান্তিময় ও আদর্শ সমাজে রূপান্তর করেছিলেন, যা বিশ্ব ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত।
তারা আরও উল্লেখ করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন একজন মহান ব্যক্তিত্ব ও অনুকরণীয় রাষ্ট্রনায়ক; তার জীবন ও আদর্শ কেবল ধর্মীয় পরিমণ্ডলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমগ্র মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও ন্যায়ের পথিকৃত।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়েল উদ্যোগে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী এই উৎসবে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ও সেমিনার কক্ষের সামনে ইসলামিক বই প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড প্লেসমেন্ট অফিসের উপ-পরিচালক কে. এম. মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইন বিভাগের প্রভাষক ওমর ফারুক তামিম এবং মোনায়েম খান।
আলোচনা সভা শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খানের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









