সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানি, বৈষম্য এবং নিয়োগবঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ৪ দফা দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে শাখা ছাত্রশক্তির দপ্তর সম্পাদক রাফিদ জাবির অর্ণব স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান ও সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দীন এ প্রতিবাদ জানায়।
বিবৃতিতে তারা বলেন, চাকরিতে সব ধরনের স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক লবিং ও বৈষম্য দূর করে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ করে দেওয়াই ছিল জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য। অথচ যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার পরও রাজনৈতিক কারণে কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়া মূলত পুরোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি।
ছাত্রনেতারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হতে পারে না। কোনো প্রার্থীর দলীয় পরিচয় নয়; বরং তার মেধা, যোগ্যতা, সততা ও আইনের প্রতি আনুগত্যই সরকারি নিয়োগের প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত।
বিবৃতিতে তারা ৪ দফা দাবি তুলে ধরে, দাবিগুলো হলো–
১. পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। কেবল রাজনৈতিক মতামত বা পারিবারিক পরিচয়ের কারণে কাউকে অযোগ্য ঘোষণা না করা।
২. কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হলে তার পেছনে আইনসম্মত, সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য কারণ থাকা।
৩. ভেরিফিকেশনের নামে এ পর্যন্ত যাদের অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের অভিযোগের দ্রুত ও সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করে প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা।
৪. ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করা।
এছাড়া সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সব ধরনের রাজনৈতিক বৈষম্য ও হয়রানি বন্ধ করে একটি সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সরকারি নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









