শ্রীনগরে পারিবারিক কলহের জেরে অন্যের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে দুই বছরের এক অবুঝ নাতিকে পাকা উঠানে ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দাদির বিরুদ্ধে। রোমহর্ষক এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শিশুটির দাদি মুক্তা বেগমের বিরুদ্ধে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির মা।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে, শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের কাননীসার গ্রামে। অভিযুক্ত দাদির নাম মুক্তা বেগম (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের তোফায়েল খানের স্ত্রী। আর আহত শিশুটির নাম নাফিন (২), সে একই এলাকার মো. নীরব ও সোনালী আক্তার দম্পতির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূ সোনালী আক্তারকে বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন দাদি মুক্তা বেগম। ঘটনার দিন পারিবারিক কলহের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেশীর কোল থেকে দুই বছরের শিশু নাফিনকে সজোরে কেড়ে নেন তিনি। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিশুটিকে সজোরে পাকা উঠানে আছড়ে ও ছুঁড়ে ফেলে দেন। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ সাগর এ ঘটনাকে চরম অমানবিক উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দাদি মুক্তা বেগম পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা জানান, শিশুটির মায়ের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অভিযোগ খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









