জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনুষদের ডিন পদে সংগীত বিভাগের এক শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও বিধিমালা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে অন্য বিভাগের শিক্ষককে ডিনের চেয়ারে বসানো হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইরফান আজিজের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ পান সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। এই নিয়োগের পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এর ২২(৫) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অনুষদের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য থেকেই ডিন নিয়োগের বিধান রয়েছে।
আইন ও বিচার বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এক অনুষদের শিক্ষক অন্য অনুষদের ডিন হতে পারেন না। এই বিধি উপেক্ষা করে প্রশাসন যা করেছে, তা আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা কোনোভাবেই মানি না। অবিলম্বে আমাদের বিভাগ থেকে ডিন নিয়োগ দিতে হবে।’’
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিক বলেন, ‘‘আমাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। অনুষদে যোগ্য সহযোগী অধ্যাপক থাকার পরও বাইরের শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ায় আমরা আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি।’’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘‘নিয়ম হলো জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক ডিন হবেন। কিন্তু আইন বিভাগের যাকে ডিন করা যায়, তাকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কানাঘুষা থাকায় সমালোচনা এড়াতে সাময়িকভাবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আগে আইন বিভাগ কলা অনুষদের অধীনেই ছিল। ডিনদের কাজ তো আর আলাদা নয়। যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি অত্যন্ত শিক্ষার্থীবান্ধব ও শান্তশিষ্ট। এরপরও সমস্যা হলে উচ্চপর্যায়ের সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









