জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘নৈতিক অভিভাবকত্ব: আত্মিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নৈতিক সমাজ বিনির্মাণ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর্থিক দুরবস্থা ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে ঝরে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আত্মিক পরিবার গড়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের লক্ষ্য।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক ও মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের ট্রাস্টি সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন আহমেদ।
বিশেষ আলোচক ছিলেন জবি কাউন্সেলিং সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারজানা আহমেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন আহমেদ ও প্রক্টর (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন। ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. মাহবুবুর রহমান প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান সহযোগী অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক।
আয়োজকরা জানান, মোরাল প্যারেন্টিং শুধু বৃত্তি কার্যক্রম নয়, এটি একটি আত্মিক পরিবার। মোরাল প্যারেন্টরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেন এবং ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান হিসেবে স্থানীয় শিক্ষকরা সেই সহায়তা পৌঁছে দিয়ে শিক্ষার্থীদের দেখভাল করেন। অসাম্প্রদায়িক ও অরাজনৈতিক সংগঠনটি নৈতিকতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মিক সম্পর্কের মাধ্যমে সহিংসতামুক্ত নৈতিক সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।
কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সেমিনারের আলোচনা ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা দেবে। শিক্ষক ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে মোরাল প্যারেন্টিংয়ের ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক সূচকে নয়, নৈতিকতার উন্নয়নেও বিবেচিত হওয়া উচিত।
সহযোগী অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, মোরাল প্যারেন্টিংকে শুধু ‘ডোনেশন’ হিসেবে না দেখে পারস্পরিক দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে হবে। একজনের নেওয়া দায়িত্ব পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









