রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণ-ইফতার’ অনুষ্ঠানে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কয়েকশত শিক্ষার্থী ইফতার না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেন। ইফতারের আগমুহূর্তে খাবারের সংকট ও অব্যবস্থাপনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আসর নামাজের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন। ছেলেদের জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং মেয়েদের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে এই আয়োজন করা হয়। রাকসুর পক্ষ থেকে বিশাল আয়োজনের কথা জানানো হলেও বিতরণের ক্ষেত্রে গাফলতি লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানস্থলে টোকেন পরীক্ষা করে ভেতরে প্রবেশের কথা থাকলেও অনেক বহিরাগত ও স্থানীয়দের ইফতারের প্যাকেট সংগ্রহ করতে দেখা যায়। ফলে ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলেও অনেক শিক্ষার্থী প্যাকেট পাননি। এছাড়া অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা সল্পতার কারণে অনেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এসময় শিক্ষার্থীদের ' ভুয়া ভুয়া ' স্লোগান দিতে শোনা যায়।
রাকসু সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এই গণ-ইফতারের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে ৮টি গরু ও ৫০ কেজির অধিক মুরগির মাংসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।এতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হল সংসদ থেকে ইফতারের টোকেন সংগ্রহ করেছিলেন।
ফিশারিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, "রাকসু শিক্ষার্থীদের দাওয়াত দিবে, গণ-ইফতার নাম দিবে এবং ইফতার করাতে পারবে বলে ফুটেজ খাবে, কিন্তু সবাইকে খাবার দিতে পারবে না—তা তো হয় না। সোজা কথা, যেটা সাধ্যের বাইরে সেটা করতে গিয়ে কেন ফুটেজ খেতে হবে? তাদের লজ্জা লাগা উচিত এবং সবার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।"
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, "মসজিদে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা বসে থাকার পর আজানের ঠিক আগমুহূর্তে জানলাম খাবার শেষ। আমাদের সামনে বসেই আয়োজকরা ইফতার করলেন, অথচ আমাদের জানালেন খাবার নেই।"
এ সময় তিনি রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অথচ সমালোচনা করারও উপায় নেই। কিছু বললেই রাকসু জিএস অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাঁদের আচরণে এখন আর শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মনে হয় না।"
ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের অমুসলিম শিক্ষার্থী উদয়ন কর্মকার বলেন, "অমুসলিমদের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গার স্বল্পতা ও বিশৃঙ্খলার কারণে অনেক অমুসলিম শিক্ষার্থীও খাবার না পেয়ে ফিরে গেছে। রাকসু যদি চাইত এটা প্রতি হলে হলে ইফতারের আয়োজন করতে পারত, তবে এই অব্যবস্থাপনা দেখা দিত না।"
খাবার সংকট ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার এদিনকে বলেন, "আমাদের ১৬ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য টোকেন বিতরণ করা হলেও ১৮ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। কিন্তু শেষ সময়ে সময় সল্পতা ও টোকেনের অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক অনেক শিক্ষার্থী টোকেন ছাড়াই খাবার নিতে এসেছিল। যার ফলে কয়েকশত শিক্ষার্থীদের খাবার না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। আয়োজক ও দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এবিষয়ে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









