মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

আমের মুকুলে সেজেছে গোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ পিএম

আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ পিএম

আমের মুকুলে সেজেছে গোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

শীতের শুষ্কতা পেরিয়ে প্রকৃতিতে নেমেছে বসন্তের স্নিগ্ধ পরশ। ঋতুর এই পালাবদলে গাছে গাছে ফুটে উঠেছে আমের মুকুলের সুবাসিত বার্তা। আর সেই হলুদে-সবুজে মুকুলে অপরূপ সাজে সেজে উঠেছে পঞ্চান্ন একরের গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস।

শীতের প্রকোপ কমতেই ক্যাম্পাসের আমগাছগুলো থোকা থোকা মুকুলে ছেয়ে গেছে। চিকন ডালপালা মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে। সোনালি রোদের আভা আর মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা সেই মুকুল যেন চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। ক্যাম্পাসের বাতাসে ভাসছে মুকুলের মিষ্টি সুবাস, মৌমাছির গুনগুন ধ্বনি আর পাখির কলতানে মুখর চারপাশ। প্রাণবন্ত এই প্রাকৃতিক আবহ শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মনে ছড়িয়ে দিচ্ছে নির্মল বসন্তের স্নিগ্ধ ছোঁয়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনের প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে শহীদ মিনার, হল চত্বর, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ডরমিটরি ও একাডেমিক ভবনের চারপাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহের আঙিনা—সবখানেই আমগাছগুলো মুকুলের সজীবতায় ভরে উঠেছে। গাছের নিচে ঝরে পড়া মুকুলে যেন বিছিয়ে গেছে হলুদাভ এক নরম কার্পেট। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা আমগাছঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ধরে হাঁটাহাঁটি করে উপভোগ করছেন বসন্তের এই মোহনীয় সৌন্দর্য।

দিনভর মুকুলে ভরা ডালগুলোতে মৌমাছির ব্যস্ত উড়াউড়ি দেখা যায়। হালকা বাতাসে ভেসে আসা মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ অনেক শিক্ষার্থীকে এক মুহূর্তের জন্য থেমে যেতে বাধ্য করে। ডালে বসা ছোট ছোট পাখির কিচিরমিচিরে বসন্তের আবেশ আরও বেড়ে যায়। ব্যস্ত পড়াশোনার মাঝেও এই দৃশ্য এনে দেয় একটু স্বস্তি ও প্রশান্তি।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লাবিবা তাসফিয়া বলেন, “শীতের ধূসরতা পেরিয়ে বসন্ত আসে রঙ আর সুবাস নিয়ে। হলদে-সবুজ আমের মুকুলের আগমনী বার্তায় বদলে যায় চারপাশের আবহ, প্রকৃতি জেগে ওঠে নতুন প্রাণে। এই পরিবর্তন যেন আমাদের শেখায়—অন্ধকারের পরেই শুরু হয় সম্ভাবনার ঋতু। বসন্তের এই নবজাগরণ তাই মনে জাগায় আশা, সাহস ও নতুন করে পথচলার প্রেরণা।”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী শামসুল আরেফিন বলেন, “ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়ায় নব রূপে উজ্জীবিত হয়েছে আমাদের এই ক্যাম্পাস। বাতাসে সুঘ্রাণ উড়িয়ে গাছের শাখায় হলুদ শাড়িতে নৃত্য করা আমের মুকুল, সারি সারি গাঁদা ফুল—এ যেন এক অলিখিত স্বর্গরাজ্য। পড়ন্ত বিকেলে ক্যাম্পাসের ক্যালিফোর্নিয়া রোডে মিষ্টি ঘ্রাণের স্নিগ্ধ বাতাসে একটু হেঁটে চলা নিমিষেই মিটিয়ে দেয় মনের বিষণ্নতা। ঋতুরাজ বসন্ত যেন বলে দেয়, শীতের রুক্ষতাই শেষ নয়; বরং পরক্ষণেই মেলে প্রকৃতির রূপ-লাবণ্য। এখানেই প্রকৃতি শেখায় জীবনের পাঠ।”

এদিকে ক্যাম্পাসজুড়ে আমের মুকুলের অধিক উপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাহমিনা বেগম বলেন, এ বছর শুধু এই ক্যাম্পাসেই নয়, দেশের অন্যান্য জায়গাতেও আমের মুকুল তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে প্রধান কারণ অনুকূল পরিবেশ।

তিনি জানান, আমগাছে মুকুল আসার সময় শীতের শেষ ভাগ হলেও এর প্রস্তুতি একটু আগে থেকেই শুরু হয়। এই সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, ঘন কুয়াশা বা বাতাসে বেশি আর্দ্রতা থাকলে মুকুল ভালোভাবে আসে না। কিন্তু এ বছর এসব প্রতিকূলতা তুলনামূলক কম থাকায় মুকুলের পরিমাণ বেশি হয়েছে। অর্থাৎ কম বৃষ্টিপাত, কম কুয়াশা এবং অনুকূল তাপমাত্রা—এই শর্তগুলো পূরণ হওয়ায় মুকুল ভালো এসেছে।

মুকুল আসার পর তা টিকিয়ে রেখে ভালো ফলন পাওয়ার জন্য তিনি আরও বলেন, মুকুল আসার পর তা টিকিয়ে রাখতে সঠিক পরিচর্যা জরুরি। পর্যাপ্ত সার ও সেচের ব্যবস্থা না থাকলে মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব কম্পোস্ট ও জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে। রোগবালাই প্রতিরোধে ফুল আসার আগে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ফুল ফোটার পর কীটনাশক প্রয়োগ করলে পরাগায়ন বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে ফলন কমে যেতে পারে।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.