বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কারের পর এক পরীক্ষার্থীর হামলায় চারজন স্টাফ আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর নাম আহনাফ আহমেদ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে তাকে কক্ষ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তাকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নেওয়ার সময় হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত স্টাফদের ওপর হামলা চালায় এবং সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে তাদের ওপরই চড়াও হয় সে।
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মী মো. মনিরুজ্জামান, রাসেল হোসেন, উজ্জ্বলসহ আরও একজন। গুরুতর আহত তিনজনকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত নিরাপত্তাকর্মী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর সে হঠাৎ মারমুখী হয়ে ওঠে। তাকে আটকাতে গেলে আমাকে আঘাত করে। এতে আমার নাক-মুখ দিয়ে রক্তপাত হয়।”
ঘটনার বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, “অসদুপায় অবলম্বনের কারণে বহিষ্কৃত এক পরীক্ষার্থী চারজন স্টাফকে মারধর করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে আমাদের কাছে দিয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ভর্তি পরীক্ষার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রধান ফোকাল পয়েন্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, “নিয়ম ভঙ্গ করায় পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। পরে সে স্টাফদের ওপর হামলা চালায়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, “পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্টাফরা হামলার শিকার হয়েছেন। অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর পরীক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









