বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব “শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা-২৫৭০ বুদ্ধাব্দ” উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসিতে জুম্ম ছাত্রকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। ইবাদতের নির্দিষ্ট কক্ষ না থাকায় খোলা আকাশের নিচে আয়োজন করেন তারা। এসময় বিভিন্ন উৎসব ও ধর্মীয় কর্মসূচি পালনের জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।
কর্মসূচিতে অনলাইনে যুক্ত হন রাঙ্গামাটি বরকল উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকার বিহারের আবাসিক প্রধান বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু করুনাবংশ মহাস্থবীর। উপস্থিত সদস্যরা তাঁর কাছ থেকে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি বুদ্ধের বিভিন্ন বাণী ও উপদেশ তুলে ধরেন।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নু মং সিং মারমা বলেন, “পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এই মহান দিনটি মানবজাতির ইতিহাসে এক অনন্য তাৎপর্য বহন করে। কারণ এদিনই মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ এবং মহাপরিনির্বাণ সংঘটিত হয়েছিল।”
সংগঠনটির সভাপতি ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মন্টু চাকমা বলেন, “এ দিনে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। এ দিন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনে পৃথিবীর সকল জীবের প্রতি মৈত্রী প্রদান করি।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পাসে বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য শ্রদ্ধেয় উপাচার্যের কাছে একটি কক্ষ বরাদ্দের আবেদন জানাই। আশা করি বিষয়টি পজিটিভলি দেখবেন।”
অনলাইনে যুক্ত হয়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু করুনাবংশ মহাস্থবীর বলেন, “বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে সবচেয়ে গৌরবময় ও পবিত্র একটি দিন। বুদ্ধের এ ত্রিস্মৃতি বিজরিত বুদ্ধ পূর্ণিমা দিনে জুম্ম ছাত্র কল্যাণ সমিতির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। জীবনে নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এই বিশেষ দিনে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। দিনটি তাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









