রাজধানীর পল্লবীতে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছেন মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল খোশনবীশ। মামলায় আসামি করা হয়েছে মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মোল্লাসহ চারজনকে। অন্য আসামিরা হলেন, লতিফ মোল্লা, সাগরিকা বেগম মনি ও শাহ আলম।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, স্কুলের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষকের ইন্ধনে আসামিরা অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের কাছে বারবার চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়। লতিফ মোল্লা ও সাগরিকা বেগম মনি স্কুলের সাবেক কর্মচারী। অপরদিকে মিজানুর রহমান মোল্লা ও শাহ আলম এলাকায় চাঁদাবাজ ও বখাটে হিসেবে পরিচিত বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, মান-সম্মানের কথা বিবেচনা করে তিনি একপর্যায়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু এর পরও আসামিরা আরো টাকা দাবি করতে থাকেন। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২, ঢাকায় একটি মামলা করা হয়, যা পরবর্তীতে আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে খারিজ হয়ে যায়।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ জুন মিরপুর-১১ নম্বরের মনোরোগ ক্লিনিকের সামনে অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালকে একা পেয়ে আসামিরা পুনরায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে আদালতে আরো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তাহলে তা শুধু একটি সংগঠনের নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্যই উদ্বেগজনক। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রিয়তোষ চন্দ্র সরকার এদিনকে বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, মিজান মোল্লা ধরা পড়ার পর কথিত ‘‘মিরপুর প্রেসক্লাব’’কে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, সাধারণ সম্পাদক এস এম জহির এবং প্রধান উপদেষ্টা মিজান মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ও মামলার বিষয় সামনে আসায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংগঠনটির সভাপতি আমির ও সাধারণ সম্পাদক জহিরের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, হত্যা এবং প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। গত ১২ জুলাই কথিত প্রেসক্লাবটির প্রধান উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মোল্লাসহ চারজনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় চাঁদাবাজির একটি মামলা দায়েরের পর বিষয়টি আরো আলোচনায় আসে। পরদিন ১৩ জুলাই মিরপুর ৭ নম্বর সেকশন এলাকা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









