রাজধানীর মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজে অবসরের বয়স অতিক্রম করার পরও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিয়ম, নিয়োগ জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। গতকাল বৃহস্পতিবার মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজে চরম অব্যবস্থাপনা, নিয়োগ জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এ লক্ষ্যে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে তদন্তদলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একই কলেজের তার মনোনীত দুজন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে তদন্ত কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হলে তাকে অবসরে যেতে হয় এবং উপাধ্যক্ষ অথবা জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০২৫-এর ১১.১০ অনুচ্ছেদেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোস্তারী আহমেদের চাকরির বয়স ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ৬০ বছর পূর্ণ হলেও তিনি অবসর গ্রহণ করেননি। বরং গভর্নিং বডির সভাপতির সহযোগিতায় অধ্যক্ষের দায়িত্বে বহাল থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে কলেজের একাধিক শিক্ষক অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, অবসরের বিধান কার্যকর না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক জটিলতা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাউশির এই তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে এবং বিধি লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









