রাজধানীর নিকুঞ্জে তৈরি পোশাক খাতের ‘ঝুট’ ব্যবসার আড়ালে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক মা ও ছেলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মোটা অঙ্কের মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ‘রুদ্র টেক্স জোন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রফিকুল ইসলাম এবং তার মা সুফিয়া বেগম। এ ঘটনায় ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা গড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকার একাধিক বাসিন্দাকে ব্যবসায় অংশীদার করা এবং বড় অঙ্কের লাভ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা সংগ্রহ করতেন রফিকুল ও তার মা। মূলধন ও লভ্যাংশ নিশ্চিত করতে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি এবং ব্যাংকের চেক দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে কাউকেই পাওনা টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। উল্টো পাওনাদাররা টাকা দাবি করলে তাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে খিলক্ষেতের বাসিন্দা রকিবুর রহমান রকি জানান, তাকে লোভনীয় লভ্যাংশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন দফায় মোট ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মা-ছেলে। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের বিপরীতে ২০২৩ সালের ২৫ জুলাই নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এক মাস পর অর্থাৎ ১৬ আগস্টের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আসামিরা তা পরিশোধ করেননি। জামানত হিসেবে দেওয়া ব্যাংক চেক নিয়ে বারবার যোগাযোগ করেও টাকা উদ্ধার করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
আদালতের নথিসূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ও তার মা সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।
শুধু রকিই নন, ওই চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন আরও অনেকে। সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নিকুঞ্জের বাসিন্দা জাহিদের কাছ থেকে ৪৫ লাখ, আবিরের কাছ থেকে ২০ লাখ, হাসানের কাছ থেকে ২০ লাখ, উত্তরার রুবেলের কাছ থেকে ১৫ লাখ এবং ওমরের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকাসহ আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে মা-ছেলে দম্পতি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অর্থ আত্মসাতের পর প্রতারণার কৌশল বদলে নতুন ফাঁদ পাতার অভিযোগও উঠে এসেছে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে। পাওনা টাকা শোধের ব্যর্থতা ঢাকতে আসামিরা পাওনাদারদের স্বজন বা পরিচিতদের ‘সাধারণ বীমা কর্পোরেশন’-এর বিভিন্ন পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান এবং সে বাবদও টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে চাকরি সংক্রান্ত এ অভিযোগটির নিরপেক্ষ সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত সুফিয়া বেগম যাবতীয় মন্তব্য এ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, রকির বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দেব না। সে নিজেই আমাদের নানাভাবে হয়রানি করছে এবং আদালতে মামলা দায়ের করেছে। যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন, তাই যা বলার আমরা আদালতেই বলব।
অভিযোগের মূল অভিযুক্ত ‘রুদ্র টেক্স জোন’-এর প্রধান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাই বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়গুলো ‘অভিযোগ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









