শিক্ষার মান, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, নিবিড় পরিচর্যা ও পরিকল্পিত পাঠদান—এই চার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাইলস্টোন কলেজ। ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলেও সেই সাফল্যের উজ্জ্বল প্রতিফলন ঘটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সন মিলিয়ে কলেজটির গড় পাসের হার ৯৯.৮৩ শতাংশ। ইংরেজি ভার্সনে অর্জিত হয়েছে শতভাগ পাসের অনন্য সাফল্য। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১২ জন শিক্ষার্থী।
প্রতিবারের মতো এবারও প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়া ফলাফল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ পুরো মাইলস্টোন পরিবারকে আনন্দে ভাসিয়েছে। ফলাফলের এই সাফল্য কেবল কিছু সংখ্যার হিসাব নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নিরলস অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং প্রতিষ্ঠানের সুশৃঙ্খল শিক্ষা কার্যক্রমের সম্মিলিত অর্জন।
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মাইলস্টোন কলেজ থেকে মোট ২ হাজার ৯৫৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৩২৪ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৯৯.৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ২৮৩ জন শিক্ষার্থী।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকেও এসেছে আশাব্যঞ্জক ফলাফল। এ বিভাগে ৩১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৯৯.৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ জন। অন্যদিকে মানবিক বিভাগে ৩১৯ জন শিক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বিভাগে পাসের হার শতভাগ এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১৭ জন শিক্ষার্থী।
বিশেষ করে ইংরেজি ভার্সনে শতভাগ পাসের সাফল্য প্রতিষ্ঠানটির অর্জনে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক—তিনটি বিভাগেই শিক্ষার্থীদের এমন ধারাবাহিক সাফল্য মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে।
ফল প্রকাশের পরপরই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাস। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হাতে পেয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। কেউ আনন্দে মেতে ওঠে বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ ছুটে যায় প্রিয় শিক্ষকের কাছে, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেয় দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের আনন্দ।
বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আনন্দ উদযাপন, একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানো এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়, আর অভিভাবকদের কণ্ঠে ছিল সন্তানদের অর্জন নিয়ে গর্ব ও তৃপ্তি।
অভিভাবকদের মতে, এইচএসসির এমন প্রত্যাশিত ফলাফল তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের স্বপ্ন পূরণে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। শিক্ষার্থীরাও তাদের এই অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, নিয়মিত পাঠদান এবং কলেজের সহায়ক শিক্ষার পরিবেশের ভূমিকার কথা তুলে ধরে। এ সময় তারা কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রশাসনিক কাজে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য শুধু একটি বছরের ভালো ফলাফলে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বছরের পর বছর সেই অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মধ্যেই নিহিত থাকে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও সার্থকতা। মাইলস্টোন কলেজ সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি সাফল্যের মান আরও উন্নত করার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে।
এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত সাফল্যের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম বলেন, “একবার ভালো ফলাফল করা চমক হতে পারে, কিন্তু বছরের পর বছর নিয়মিতভাবে সেই ভালো ফলাফলের ধারা বজায় রাখা এবং সাফল্যের গ্রাফকে ঊর্ধ্বমুখী রাখা যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। নিয়মানুবর্তিতা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমেই সেই কাজটি সুনিপুণভাবে করছে মাইলস্টোন কলেজ।”
তিনি আরও বলেন, এইচএসসির ফলাফলে অসাধারণ ও ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জনের জন্য সব কৃতী শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সম্মানিত অভিভাবকদের প্রতি তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।
এইচএসসির ফলাফল শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই ফলাফলের মধ্য দিয়েই তাদের সামনে উন্মোচিত হয় উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার, তৈরি হয় পেশাগত জীবনের স্বপ্নপূরণের পথ। মাইলস্টোন কলেজের এবারের অর্জন তাই কেবল বর্তমানের আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ নয়, বরং আগামী দিনের আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা।
২ হাজার ৯৫৯ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, ৯৯.৮৩ শতাংশ গড় পাসের হার, ইংরেজি ভার্সনে শতভাগ সাফল্য এবং ৩১২ জনের জিপিএ-৫ অর্জন—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি ফলাফলে মাইলস্টোন কলেজ আবারও নিজেদের সক্ষমতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অর্জিত এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের পথ তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশাই এখন মাইলস্টোন পরিবারের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









