কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে খুলনার উদ্দেশে চলে গেছে ১১ দলীয় জোটের লং মার্চের গাড়িবহর। প্রায় তিন হাজার মাইক্রোবাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকার নিয়ে লংমার্চের বহরটি জেলার প্রবেশদ্বার মুকসুদপুরে পৌঁছায়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লং মার্চের গাড়িবহরটি গোপালগঞ্জে প্রবেশ করে। বেলা পৌনে ১২টার দিকে কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বরে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় ডা. শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, ‘‘বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও দুঃশাসনমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য। যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশ একটি মানবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হবে এবং দুর্নীতি, দুঃশাসন ও বৈষম্য দূর না হবে, ততক্ষণ তাঁদের লড়াই চলবে।’’ এ লড়াইয়ে দেশের মানুষকে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পথসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তারা সাত দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দেশের প্রয়োজনে এবং জনতার স্বার্থে যেকোনো মুহূর্তে এই সাত দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে।’’ এ সময় এক দফার আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সকাল থেকেই গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে জোটের নেতাকর্মীরা ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বরে জড়ো হতে থাকেন। পাশাপাশি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের অন্তত সাতটি পয়েন্টে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে লংমার্চের গাড়িবহরকে হাত নেড়ে স্বাগত জানান।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহলও ছিল। স্থানীয়দের মধ্যে কর্মসূচি ঘিরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
পরে দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ জেলার প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয় লংমার্চের গাড়িবহর।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই লংমার্চের আয়োজন করে ১১ দলীয় জোট।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









