সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

গাবতলী ও সায়েদাবাদে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ কম

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

গাবতলী ও সায়েদাবাদে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ কম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটির প্রথম দিনে বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন মানুষ। তবে রাজধানীর সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ ছিল কম। কিছু পরিবহন কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, জনপথ মোড় এবং যাত্রাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ জায়গায় যাত্রীরা অপেক্ষায় থাকলেও তেমন ভিড় নেই। বিশেষ করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, লাকসাম ও রায়পুরা রুটের বাসগুলোয় যাত্রী কম দেখা গেছে।

দুপুরে জনপদ মোড়ের বরিশাল–ফরিদপুর রুটে চলাচলকারী গোল্ডেন লাইন কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। এ সময় মাহবুবুর রহমান নামে ফরিদপুরগামী একজন যাত্রী মালপত্রের ভাড়া হিসেবে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন।

ঢাকা থেকে খুলনাগামী আরমান এন্টারপ্রাইজ একেক যাত্রীর কাছ থেকে একেক রকম ভাড়া আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেন বাসটির দুই যাত্রী। এই রুটে সাধারণ সময়ের ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও একজন ৬০০ টাকা এবং অন্যজন ৭৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। এ বিষয়ে বাসটির মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ৫০০ করে নিই। কাউন্টার থেকে অনলাইনে কাটলে বেশি নেয়।’

একই রুটে চলাচল করা মদিনা ক্ল্যাসিক পরিবহনে যাত্রী হিসেবে ভাড়া জানতে চান এই প্রতিবেদক। তার কাছে ৭০০ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বেশি ভাড়া চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বাসের মাস্টার বলেন, ভুল করে ৭০০ বলে ফেলেছেন।

গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বাস নির্ধারিত সময় পার হলেও খালি আসন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কাউন্টারে গিয়ে টিকিট নিতে চাইলে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহীগামী যাত্রী মো. রেদওয়ান বলেন, ‘বাসে সিট খালি আছে তাও কাউন্টারে গিয়ে বলছে বেশি টাকা দিতে হবে। বাড়তি টাকা না দিলে সিট নেই, এটা সম্পূর্ণ অন্যায়।’

বগুড়াগামী এক যাত্রী জানান, ‘ঈদে তো যেতেই হবে। তেলের অজুহাতে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা লম্বা ছুটি পেয়েছি, যানজট নেই, যাত্রা সহজ, তবুও এই অতিরিক্ত ভাড়া মানতে হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহনকর্মী জানালেন, জ্বালানি সংকট এবং গাড়ি কম চলাচলের কারণে কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেন, সব পরিবহন একভাবে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে না।

এদিকে, টার্মিনালে থাকা কিছু লোকাল পরিবহন বেশি ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ থাকলেও কাউন্টারভিত্তিক পরিবহনগুলো সরকারি নিয়ম মেনে ভাড়া নিচ্ছে।

যাত্রীসংখ্যা কম, যানজট নেই এবং লম্বা ছুটির সুবিধা থাকায় যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে কম ভোগান্তিতে থাকলেও, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের অভাব তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সরকারি তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, ‘তারা সরকারি নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী চার্জ নিচ্ছেন। তবে ফিরতি পথে বাস খালি আসার কারণে মালিকপক্ষ কিছুটা সমন্বয় করছে।’

টার্মিনালগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি দেখা যাচ্ছে। পুলিশ ও র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ভিজিল্যান্স টিমও কাজ করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ছিনতাই প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঝক্কি-ঝামেলা থাকলেও নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা আনন্দদায়ক। সবার লক্ষ্য—নির্ধারিত সময়ে পরিবারের কাছে পৌঁছানো। এতে ঈদ উদযাপনের আনন্দ এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলন আরো সুন্দর হয়ে উঠছে।

সাজ্জাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.