সাংবাদিক, লেখক ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠক হাবীব ইমন আর নেই। গতকাল রবিবার সকাল নয়টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে মারা যান তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। মা খালেদা পারভীন, দুই ভাই ও এক বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহযোদ্ধা-সহকর্মী রেখে গেছেন তিনি।
হাবীব ইমন ছিলেন অনলাইন নিউজপোর্টাল সমাজকালের সহকারী বার্তা সম্পাদক। একাধারে কবি ও সৃজনশীল লেখকও হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন তিনি। ছিলেন বামধারার যুব গণসংগঠন যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্যও।
স্বজনেরা জানান, সকালে খিলগাঁওয়ের বাড়িতে ঘুম থেকে ওঠার পর অসুস্থ বোধ করেন হাবীব হাবীব। পরে অচেতন অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরে বাসভবনের নিচে রাখা মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় সদস্য মানবেন্দ্র দেব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, যুব ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদ, বর্তমান সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও সাংবাদিক রিয়াজ হোসেনসহ বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাংবাদিকরা। পতাকায় মরদেহ ঢেকে দেওয়া হয় ও পার্টির নেতাকর্মীরা তার প্রতি স্যালুট প্রদান করেন।
খিলগাঁওয়ের মসজিদুল আমান জামে মসজিদে বাদ যোহর হাবীব ইমনের প্রথম নামাজে জানাজা শেষে মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী মাইজদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরেক দফা নামাজে জানাজা শেষে সেখানে দাফন করা হয়।
হাবীব ইমনের বাবা খলিলুর রহমান অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে মারা যান। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়েছে। মা খালেদা পারভীনকে নিয়ে খিলগাঁওয়ের নিজ বাড়িতে বাস করতেন হাবীব ইমন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
হাবীব ইমন ২০২২ সালে ‘ঢাকা মেইল’-এর প্রতিষ্ঠালগ্নে সহ সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। ২০২৩ সালের শেষ দিকে যুক্ত হন ‘সংবাদপ্রকাশ’-এ। বিভিন্ন সময়ে যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
কবি এবং সৃজনশীল ও কলাম লেখক হিসেবে সমকালীন বিষয়ে তার বিশ্লেষণধর্মী লেখাগুলো পাঠকমহলে বেশ সমাদৃত ছিল। যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘে।
নোয়াখালীর মাইজদীতে জন্মগ্রহণ করা হাবীব ইমনের বেশ কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ ও প্রবন্ধের বই রয়েছে। তার একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। সৃজনশীল লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গে সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীর ছাত্র-যুব উৎসবে বিশেষ সংবর্ধনায় ভূষিত হন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে মারা যান হাবীব ইমনের বাবা। পরে তাকে ব্রিসবেনেই দাফন করা হয়। ব্রিসবেনেই পরিবার নিয়ে বাস করেন তার ছোট ভাই। তিনি একজন চিকিৎসক। সেখানকার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটিতে ভাইয়ের স্ত্রী পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, হাবীব ইমনের ছোট ভাই পরিবারসহ সোমবার (৬ এপ্রিল) দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









