গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে সরকারি চাকরি এবং বিভিন্ন ধরনের সরকারি রিলিফ কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মনোজ কুমার বালা একই ইউনিয়নের ছোট ডোমরাসুর গ্রামের মনিন্দ্রনাথ বালার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ছোট ডোমরাসুর গ্রামে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন খোদ অভিযুক্তের বাবা মনিন্দ্রনাথ বালা ও ছোট ভাই মিঠুন বালা। তারাও মনোজ কুমার বালার এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মনোজ কুমার বালা এলাকার সহজ-সরল ও দরিদ্র মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণা করে আসছেন। সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, ভিজিডি, ভিজিএফ ও বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু পরবর্তীতে চাকরি বা কার্ড কোনোটিই না দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে হারাধন বৈরাগী, লেবু বাইন, রত্না মল্লিক, মহাদেব বৈরাগী ও আব্দুর সাত্তার মোল্লাসহ আরও অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে মনোজ কুমার বালা উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ-বৈঠক করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, নিজের সুনির্দিষ্ট প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আড়াল করতেই মনোজ বিভিন্ন কৌশলে এলাকায় বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত মনোজ কুমার বালার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকা দ্রুত উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









