নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর আহত রনি ওরফে মাল্টা রনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চনপাড়া ও তারাবো এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ও ২১ মে গভীর রাতে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার শ্রাবণ গ্রুপ ও নবী ভান্ডারী গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সে সময় ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ওই সংঘর্ষের মাঝেই গুরুতর আহত হন রনি।
তবে নিহত রনির পরিবারের দাবি, তিনি এই সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না। ফলের আড়তে যাওয়ার পথে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের বোন নাছরিন আক্তার থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় আসামিদের সঙ্গে রনির বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
রনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, "আহত রনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।"
এদিকে রনির মৃত্যুর পর উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









