কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ইঞ্জিনচালিত বেপরোয়া ট্রলি চাপায় আরিয়ান নামের ৪ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৩মে) সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের কবুরহাট শিমুলিয়া মাঠপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরিয়ান ওই এলাকার মাঠপাড়া গ্রামের মামুন মিয়ার ছেলে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন চলছে মাতম। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মাঠ থেকে কাটা ধান সংগ্রহের উদ্দেশ্যে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলি শিমুলিয়া মাঠপাড়া সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় শিশু আরিয়ান বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে খেলা করছিল। ট্রলিটির গতি বেপরোয়া থাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরিয়ানকে সরাসরি চাপা দেয়। ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুটি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে এবং গুরুতর আহত হয়।
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আরিয়ানকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মাথায় মারাত্মক আঘাত পাওয়ার কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় জনতা। তারা ধাওয়া করে ঘাতক ট্রলিটি ঘটনাস্থলেই আটকে (জব্দ) রাখে। তবে বেগতিক দেখে ট্রলি চালক ও তার সহযোগীরা কৌশলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ট্রলিটি হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।
চার বছরের ফুটফুটে শিশু আরিয়ানের এমন আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে পুরো কবুরহাট শিমুলিয়া এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবা এখন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। এব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, কবুরহাট এলাকায় ট্রলির চাপায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন এসব ইঞ্জিনচালিত ট্রলি ও ট্রাক্টর প্রতিনিয়ত বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব যানের চালকরা অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই গাড়ি চালায়। ফলে নিয়মিত বিরতিতে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিশুরা। গ্রামীণ রাস্তায় এসব অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল বন্ধে এবং ঘাতক চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









