নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেন, “হত্যাকারী যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
শনিবার (২৩ মে) আড়াইহাজার উপজেলা সদরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে হবে। সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার সময় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।”
সংসদ সদস্য আরও বলেন, “প্রশাসনের কাছে এখন অনেক ধরনের প্রযুক্তি রয়েছে। যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”
এরআগে, বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ওসমান গণিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জিয়া প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সিফাত ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “হত্যাকারী সকলেই গামছা দিয়ে মুখ ঢাকা ছিল। ২০/২৫ জনের মুখোশধারী দলটি এসেই ঘেরাও দিয়ে ফেলে এবং সবাইকে মাথা নিচু ও হাত উঁচু করে থাকতে বলে। প্রথমে মুখোশধারীরা ধারালো ছুড়ি দেখিয়ে আমাকে বলে ‘তোর মেশিন বের কর, নাইলে তোকে মেরে ফেলবো, আমি বলি আমার কাছে কোনো মেশিন নেই। মানিব্যাগ আর মোবাইল আছে, আমাকে যেভাবে পারেন চেক করে দেখেন। তারপর আমাকে আর কিছু বলে নাই। মুখোশধারীদের মধ্যে একজন আঙ্গুল দিয়ে ওসমানকে দেখাই দিছে তখন ভাইকে মুখোশধারীরা দুস্কীতিদের একজন তালা খোলার কার্টার দিয়ে প্রথমে পিছন দিয়ে মাথায় বাড়ি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যান। পরে ইচ্ছামত তাকে কোপায়ছে। ওনার বডিটা লড়তাছে দেখে তারা বলে ‘এখনও মরস নাই’ এই কথা বলে আবারো কোপ দেয়। এতে তার মুখের দিক দিয়ে ফাঁক হয়ে যায়। পরে তারা চলে যায় আর আমরা ওসমান ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে যাই।”
ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ১নং ওয়ার্ড সভাপতি ইসমাইল মিয়া জানান, মাটি তোলাকে কেন্দ্র করে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান মিয়া ওসমান গণির প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লোক হয়ে দুপ্তারা ইউনিয়নের এসে মাটি তুলছে এ জন্য রমজান মিয়া ওসমান গণির কাছ থেকে লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিকে অস্বীকার করায় এনিয়ে গত মঙ্গলবার ওসমান গণির সাথে রমজান আলীর বাগবিতণ্ডা হয়।
নিহত ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি বড় বিনাইর চর গ্রামের মৃত আব্দুল আব্দুর রশিদের ছেলে। ওসমান গণি একই সাথে উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, শনিবার বিকাল পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়নি। তবে এ ঘটনায় আটক দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান মিয়া, পাঁচগাও এলাকার রমজান আলী, সুমন মিয়া ও সোলেমান হোসেন নামে চারজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
ওসি বলেন, “আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনা যারাই জড়িত হোক না কেন তাদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









