জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নজরুলকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছিলেন এবং কবির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মসজিদের পাশে কবর দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উৎসবের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথ থেকে ধার করে নিয়ে পড়ি। নজরুল মনে করতেন সবার ওপরে মানুষ সত্য, সেখানে ধর্মের কোনো বিভেদ নেই। অথচ বর্তমানে গুণ্ডা ও ভণ্ডরা ধর্মের আবরণে রাজনীতি করছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শিল্প-সাহিত্য আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও তা অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই চর্চার পরিবর্তে যুবসমাজ মাদক, অস্ত্রবাজি আর গুণ্ডামিতে নিমজ্জিত হচ্ছিল এবং তাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিপর্যস্ত এই সমাজের হাল ধরেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন যাতে শিক্ষার্থীরা পুনরায় বই ও সৃজনশীল চর্চায় ফিরে আসে।
রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে রামিসার বাসায় গেছেন এবং প্রশাসনের তৎপরতায় মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবানবন্দি গ্রহণ ও এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দাখিল প্রমাণ করে যে বিচার বিভাগ অত্যন্ত সক্রিয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অস্থিতিশীলতা তৈরি করে কোনো অপরাধীকে রক্ষা করা যাবে না। জুলাই বিপ্লবের ১৪০০ শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে কোনো অপরাধী পার পাবে না এবং কোনো উসকানি দিয়ে সরকারকে থামানো যাবে না। দেশটাকে শিশুর বসবাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি হেলাল হাফিজের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ব্যর্থ হলে আমরা উত্তর পুরুষের কাছে ভীরু কাপুরুষের উপমা হয়ে থাকব।
নজরুলের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অসাম্প্রদায়িক ভারতবর্ষ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নজরুল রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি গঠন করে ভারতের কেন্দ্রীয় আইন সভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তৎকালীন কংগ্রেসের প্রতারণার কারণে পরাজিত হন। নজরুল আসলে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী শরিফুল আলম, সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এনডিসি এবং ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া। এছাড়াও নজরুল গবেষক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. খালিকুজ্জামান, ড. মো. হাবিবুল মাওয়া এবং রাশেদুল আনাম সভায় আলোচনায় অংশ নেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









