পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে তিন ধাপে ছুটি কার্যকর করা শুরু হয়েছে। গত ঈদুল ফিতরে এই পদ্ধতিতে ইতিবাচক ফল পাওয়ায় এবারও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন ও শিল্প মালিকপক্ষ। প্রথম ধাপে আজ সোমবার (২৫ মে) জেলার প্রায় ৪২ শতাংশ কারখানায় ছুটি শুরু হচ্ছে। এর ফলে দুপুরের পর থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল রবিবার পর্যন্ত মহাসড়ক দুটিতে যানবাহনের চাপ থাকলেও বড় ধরনের কোনো যানজট দেখা যায়নি। তবে আজ সোমবার থেকে ঘরমুখী মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা ও মহানগর পুলিশ।
দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাজীপুর। এই জেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহার করে অন্তত ২২টি জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। শিল্পসমৃদ্ধ এই জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যেখানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৮ থেকে ৩০ লাখ। সাধারণত ঈদের আগে একসঙ্গে সব কারখানা ও অফিস ছুটি হলে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই ভোগান্তি এড়াতেই এবার তিন ধাপে ছুটির সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ ৪২ শতাংশ, আগামীকাল মঙ্গলবার ৪৫ শতাংশ এবং আগামী বুধবার বাকি ৮ শতাংশ কারখানায় ছুটি শুরু হবে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, “গত ঈদুল ফিতরে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ায় মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা অনেক স্বস্তিদায়ক ছিল। এবারও একই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, রবিবার রাত পর্যন্ত জেলার প্রায় ৯৮ শতাংশ কারখানায় বেতন এবং ৯৫ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। তবে ইউনিক ডিজাইনারস লিমিটেড, ট্রাউজার ল্যান্ড ও কেয়া কসমেটিকসসহ কয়েকটি কারখানায় কিছু বকেয়া সমস্যা রয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এদিকে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড়, মাওনা চৌরাস্তা, ভবানীপুর, বাঘের বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি ও জৈনাবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে মহাসড়কে কাজ করছে।
কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে দৈনিক প্রায় দুই লাখ মানুষ যাতায়াত করলেও ঈদের সময় তা বেড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখে পৌঁছায়। তাই যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। গাজীপুর জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং পুলিশের একাধিক টিম মাঠে থাকায় গত ঈদের মতো এবারও যানজট সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
অন্যদিকে, ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ শ্রমিকেরা। তারা জানান, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ রওনা না হওয়ায় পরিবহন সংকট ও দীর্ঘ যানজটের ঝুঁকি কমছে, ফলে তারা বেশ স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরতে পারছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









