ঈদুল আজহায় প্রান্তিক চামড়া সংগ্রহকারীরা যাতে পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য সরকারের কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে সিলেটের চা শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চামড়া ক্রয়ে কোনো ধরনের ধীরগতি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে প্রয়োজনে সরকার ‘ওয়েট ব্লু’ (অর্ধ-প্রক্রিয়াজাত) চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেবে এবং প্রয়োজনে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।’’
এ সময় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘‘আগামীর জাতীয় বাজেট ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে এবং দেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ধারার সূচনা করবে।’’
এর আগে মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, চামড়া শিল্পের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে একে আগামী দিনে একটি মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এবারের সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে সুসংগঠিতভাবে চামড়া পাচারের সুযোগ খুবই সীমিত। তবে চামড়া খাতের এই মুহূর্তের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সঠিক সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি।
তিনি জানান, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) সক্ষমতা বাড়াতে একটি ইতালীয় প্রতিষ্ঠান বর্তমানে গবেষণা করছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এছাড়া হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পর যেসব ট্যানারি বন্ধ হয়ে রয়েছে, সম্ভাব্যতা যাচাই করে সেগুলোকে নতুন অর্থায়নে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশবাসীকে কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথভাবে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘চামড়া ছাড়ানো এবং দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণের দক্ষতার ওপরই এর প্রকৃত মূল্য নির্ভর করবে। সঠিকভাবে লবণ দিলে চামড়া নষ্ট হবে না, সাভারের সিইটিপির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না এবং সারা বছর ধীরে ধীরে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









