বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বুধবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে জয়ের পর উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও বদলি বেঞ্চে থাকা জিওভানি লো সেলসো একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘Las Malvinas son Argentinas’—বাংলায় যার অর্থ, ‘ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’।
ফিফার আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তাসংবলিত কোনো ব্যানার বা প্রদর্শনী নিষিদ্ধ। এ কারণেই ঘটনাটি তদন্ত করছে সংস্থাটির স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফিফা জানায়, ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ঘটনার সব দিক বিবেচনা করে শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফিফার এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে বলেন, ‘ফিফার স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি বর্তমানে ম্যাচ রিপোর্ট মূল্যায়ন করছে এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করছে।’
ব্যানারটি খেলোয়াড়দের হাতে কীভাবে পৌঁছেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ফিফার বিধিমালা অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও শাস্তির মুখে পড়তে পারে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হয়।
এদিকে ব্রিটেনের ব্যবসামন্ত্রী পিটার কাইল ঘটনাটিকে ফিফার নিয়মের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। দ্বীপবাসীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত থাকবে।’
আটলান্টার ম্যাচের পর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিটার কাইল বলেন, ‘রাজনীতিকে ফুটবল থেকে আলাদা রাখা প্রয়োজন। বিশ্বকাপের অন্যতম মূল নীতিই হলো—রাজনীতি ফুটবলের বাইরে থাকবে।’
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই খেলোয়াড়দের এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ বৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, এটি আর্জেন্টাইন জনগণের অনুভূতির প্রতিফলন। তবে এ ঘটনায় ফিফা জরিমানা করতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
বুয়েনস এইরেসের একটি রেডিও স্টেশনকে মিলেই বলেন, *‘খেলোয়াড়রা আবেগের বশে এমন করেছে। মুহূর্তের তাড়নায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এর ফলে জরিমানার বিষয়টি সামনে আসতে পারে।’*
সেমিফাইনালের আগেই আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়্যারুয়েল ইংরেজদের ‘দখলদার জলদস্যু’ বলে মন্তব্য করে বিতর্ক উসকে দেন।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ—যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত—নিয়ে দুই দেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জ দখলকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ নিহত হন। বর্তমানে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাজ্যের হাতে থাকলেও আর্জেন্টিনা এখনো সেগুলোকে নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আগামী রোববার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









