সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার প্রোফাইল ছবি কতটা নিরাপদ? মনে হচ্ছে, মেটার কাছে এর উত্তর—‘খুব একটা নয়’। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন এআই টুল ‘মিউজ ইমেজ’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে যেকেউ যেকোনো সর্বজনীন ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে এআই-নির্মিত ছবি তৈরি করতে পারবেন। অথচ ছবির মালিককে এ বিষয়ে জানানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রযুক্তি বিশ্বে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
কীভাবে কাজ করে এই টুল?
মিউজ ইমেজ একটি লেখা থেকে ছবি তৈরির টুল। অর্থাৎ কয়েকটি নির্দেশনা লিখে দিলেই এটি এআই-নির্মিত ছবি তৈরি করে। বর্তমানে এটি মেটা এআই অ্যাপ, ওয়েব ব্রাউজার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত।
মেটার দাবি, সর্বজনীন অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের ছবি ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ‘বিপর্যয় ডেকে আনার স্পষ্ট পথ’।
‘এটি গোপনীয়তার জন্য বড় হুমকি’
প্রযুক্তি-অধিকারবিষয়ক সংস্থা ফক্সগ্লোভ-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক ডোনাল্ড ক্যাম্পবেল বিবিসিকে বলেন, গত এক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমতি ছাড়া এআই-পরিবর্তিত ছবির ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা গেছে। তার প্রশ্ন, মার্ক জাকারবার্গ কেন এমন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন, তা বোধগম্য নয়।
প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল ও বিবিসিকে জানায়, ‘এটি প্রমাণ করে, অনেক এআই কোম্পানি মানুষের ছবি ও তথ্যকে শুধু ব্যবহারযোগ্য কাঁচামাল হিসেবে দেখে।’ একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া বাস্তব মানুষের ছবি দিয়ে এআই-নির্মিত ছবি তৈরি করা গোপনীয়তার জন্য বড় হুমকি।’
কীভাবে অনুমতি প্রত্যাহার করবেন?
মেটা জানিয়েছে, অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংসের বাইরে এ জন্য আলাদা একটি অপশন রয়েছে। এজন্য—
- ইনস্টাগ্রামের সেটিংয়ে যান।
- ‘শেয়ার ও পুনঃব্যবহার’ অপশন নির্বাচন করুন।
- ‘ইনস্টাগ্রামে এবং মেটার এআই সুবিধায় অন্যদের আপনার বিষয়বস্তু পুনঃব্যবহারের অনুমতি দিন’—এই অপশনটি বন্ধ করে দিন।
তবে এই সুবিধা শুধু সর্বজনীন অ্যাকাউন্টের জন্য দৃশ্যমান। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকে।
বিজ্ঞাপনদাতারাও ব্যবহার করতে পারবেন
মেটা জানিয়েছে, মিউজ ইমেজ শিগগিরই ফেসবুক ও মেসেঞ্জারেও চালু হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনদাতারাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য টুলটি বিনামূল্যে। তবে বেশি ব্যবহারের জন্য রয়েছে সদস্যতা পরিকল্পনা। এছাড়া এআই দিয়ে ভিডিও তৈরির সংস্করণও উন্নয়নাধীন বলে জানিয়েছে মেটা।
নিয়ন্ত্রকদের নজরদারিতে
ফিচারটি ইতোমধ্যেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরে এসেছে। যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম বর্তমানে এক্সের এআই টুল ‘গ্রক’ নিয়ে তদন্ত করছে, যা অনুমতি ছাড়া বাস্তব মানুষের এআই-পরিবর্তিত ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সমালোচিত। মেটার নতুন টুলও একই ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আপনার ছবি কি সত্যিই আপনার নিয়ন্ত্রণে?
মেটার এই সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের ছবি কতটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে? যখন এআই মুহূর্তেই কারও ছবি ব্যবহার করে নতুন ছবি তৈরি করতে পারে, তখন ডিজিটাল গোপনীয়তার সীমা কোথায়? তাই হয়তো এখনই সময়, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপনীয়তা সেটিংস আরেকবার ভালোভাবে দেখে নেওয়ার।
সূত্র : বিবিসি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









