নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভা পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে পৌর এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোরবানির দিন থেকেই শুরু হওয়া এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈদের তৃতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে পৌরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
শনিবার (৩০ মে) সরেজমিনে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ডাস্টবিন ও তার আশপাশে জমে থাকা কোরবানির বর্জ্য অপসারণে পাঁচ সদস্যের একটি পরিচ্ছন্নতাকর্মী দল কাজ করছে।
পৌর এলাকার ১৫টি ওয়ার্ডজুড়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ এলাকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। সংগৃহীত বর্জ্য পরিবেশসম্মত উপায়ে পৌরসভার নির্ধারিত ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে।
পিকআপচালক জাহাঙ্গীর জানান, কোরবানির দিন সন্ধ্যা থেকেই তারা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশুর বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের কাজ শুরু করেছেন তারা।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা দিন-রাত কাজ করে শহর পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছি। তবে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে অনেকেই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন, যা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করছে।’’
এদিকে, চলতি বছর কোরবানির পশুর কিছু চামড়া বিক্রি না হওয়া এবং যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল। এসব পরিত্যক্ত চামড়া থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় পৌরসভা।
পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাদ্দাম মোড় এলাকায় দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুপারভাইজার হাসান আলী রবির নেতৃত্বে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা চামড়াগুলো দ্রুত অপসারণ করে নিরাপদ স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধে বিভিন্ন এলাকায় ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেকাংশে কমে এসেছে।
পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, ‘‘পৌরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলেই স্বল্প সময়ের মধ্যে পুরো পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তবে শুধু পৌরসভার একার পক্ষে এটি সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









