পবিত্র ঈদুল আজহার ব্যস্ততা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে নগরজীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে কিছুটা স্বস্তির খোঁজে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে পূর্বাচল উপশহরে। দুপুর গড়াতেই পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফলে পুরো পূর্বাচলজুড়ে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্বাচলের বিস্তীর্ণ লেকপাড়, মনোরম সবুজ চত্বর, তিনশ ফিট সড়ক এবং আশপাশের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। কোথাও পরিবার নিয়ে আনন্দঘন আড্ডা, কোথাও স্মৃতিবন্দি করতে চলছে ছবি তোলা, আবার কোথাও শিশুদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে অস্থায়ী শিশুপার্ক ও বিনোদন স্পটগুলো।
ঈদের আনন্দকে ঘিরে জমে উঠেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসাও। খাবারের দোকান, ভ্রাম্যমাণ ফাস্টফুড স্টল, খেলনার দোকান ও শিশুদের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি। বিক্রেতাদের ভাষ্য, অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদের ছুটিতে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে।
দর্শনার্থীদের চাপ বাড়ায় বিকেলের দিকে তিনশ ফিট সড়ক ও বিনোদনকেন্দ্রসংলগ্ন কিছু এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি দেখা গেলেও প্রভাব পরেনি পর্যটকদের।
উত্তরা থেকে ঘুরতে আসা আহসান হাবিব বলেন, ‘‘ঈদের ব্যস্ততার পর পরিবারকে নিয়ে একটু খোলা পরিবেশে সময় কাটাতে এসেছি। ঢাকার মধ্যে এমন পরিবেশ সত্যিই স্বস্তি দেয়।’’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারিয়া রহমান বলেন, ‘‘বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও ছবি তোলার জন্য পূর্বাচল এখন দারুণ একটি জায়গা। এখানে এসে ঈদের আনন্দ আরও বেড়ে গেছে।’’
ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা পূর্বাচল এবারও ঈদের ছুটিতে হয়ে উঠেছে আনন্দ-উৎসবের মিলনমেলা। নগরের কোলাহল পেছনে ফেলে প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে কিছুটা স্বস্তি খুঁজতে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে, রাজধানীর নিকটবর্তী অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদন গন্তব্য হিসেবে পূর্বাচলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছেই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









