কুষ্টিয়ায় সামগ্রিকভাবে হাম আক্রান্ত রোগী এবং হাসপাতালে নতুন ভর্তির হার ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সুফিয়া (৬০) নামের এক বৃদ্ধার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। মৃত বৃদ্ধা জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত সীমান্ত সংলগ্ন আদাবাড়িয়া এলাকার ওমর আলীর মেয়ে।
রবিবার (৩১ মে) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাবে জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১,৫৯৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১,৫২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ১৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে তীব্র জ্বর, সর্দি এবং শরীরে লালচে র্যাশ (হামের প্রধান উপসর্গ) নিয়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন সুফিয়া বেগম। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৩১ মে) তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে মোট ৫৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্বাধিক ৩২ জন এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
এছাড়া খোকসায় ২ জন, মিরপুরে ৩ জন এবং দৌলতপুরে ৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। কুমারখালী ও ভেড়ামারা উপজেলায় বর্তমানে নতুন কোনো রোগী ভর্তি নেই।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের দৈনিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ও হাসপাতালে ভর্তির হার বেশ কমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পুরো জেলায় নতুন করে ১১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার বিপরীতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ জন।
পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। কিন্তু এর মাঝেই একজন বয়োবৃদ্ধ রোগীর মৃত্যু স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষ করে দৌলতপুরের যে প্রত্যন্ত এলাকায় ওই বৃদ্ধার বাড়ি, সেখানে টিকাদানের হার এবং সচেতনতার অভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কুষ্টিয়ার প্রতিটি উপজেলায়, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম সাধারণত শিশুদের রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও বয়স্কদের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। তাই পরিবারে কারও জ্বর, সর্দি ও শরীরে র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা শতভাগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









