চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলমান সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলায় দিন যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে মেলা প্রাঙ্গণ। দর্শনার্থীদের ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গাছের চারা বিক্রিও সন্তোষজনক হওয়ায় খুশি স্টল মালিকরা। তবে বিক্রি আরও বাড়াতে মেলার সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নার্সারির স্টলে ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে। আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, লেবু, নিম, অর্জুন, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়াসহ নানা প্রজাতির চারার প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
খামারবাড়ি নার্সারির মালিক তাজ রহমান টনি বলেন, “বৃক্ষমেলায় প্রতিদিনই প্রচুর দর্শনার্থী আসছেন। দর্শনার্থীরা ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারীসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা কিনছেন। এবার বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে। তবে মেলার সময় যদি আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়, তাহলে আমরা নার্সারি মালিকরা আরও বেশি উপকৃত হব। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও আরও বেশি গাছ সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।”
মেলায় আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার হরিপুর মহল্লার বাসিন্দা নাহিদুল হক জানান, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি প্রতিদিন একবার করে বৃক্ষমেলায় আসছেন। এরই মধ্যে তিনি ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধনকারীসহ বেশ কয়েকটি গাছের চারা কিনেছেন। তিনি বলেন, “এক জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির মানসম্মত গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। দামও তুলনামূলকভাবে সহনীয়। তাই নিজের প্রয়োজনের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদের জন্যও কিছু চারা কিনেছি।”
আরেক দর্শনার্থী শারমিন রহমান বলেন, “ঘর সাজানোর জন্য মানিপ্ল্যান্টসহ বেশ কয়েকটি গাছের চারা কিনেছি। মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। এক জায়গায় এত ধরনের গাছ দেখে অনেক নতুন গাছের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছি। এমন আয়োজন প্রতিবছর হলে মানুষ আরও বেশি বৃক্ষরোপণে আগ্রহী হবে।”
আয়োজকরা জানান, মেলার মূল উদ্দেশ্য মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আগামী ১ আগস্ট মেলা শেষ হবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত রয়েছে। মেলায় গাছের চারা বিক্রির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মেলা শেষ হওয়ার আগে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ও গাছের চারা বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজক ও নার্সারি মালিকরা। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে মেলার সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন নার্সারি মালিকরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









