পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে কালাইয়া হাটের ইজারাদারের ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে চালক শাহিনকে (৫৩) মারধর ও গাড়ি আটকে রেখে ৩৯ লাখ টাকা লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল সভাপতি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে বাউফল শহরের কবরস্থান সংলগ্ন সড়ক দিয়ে কালাইয়া হাটের ইজারাদার মো. রাজিবকে বহনকারী একটি কালো রঙের অ্যালিয়ন ব্র্যান্ডের গাড়ি যাচ্ছিল। এ সময় গাড়িটি সড়কের ডান পাশে চেপে গেলে একই দিক থেকে আসা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। মোটরসাইকেলে তখন ফাহাদের সঙ্গে তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার শ্রাবণীও ছিলেন।
ঘটনার পরপরই ছাত্রদল সভাপতি চালককে গাড়ি থামাতে বলেন। কিন্তু চালক গাড়ি না থামিয়ে উল্টো জানালার গ্লাস নামিয়ে ফাহাদের হাত ধরে টান দেন। একপর্যায়ে ফাহাদের পেছনে থাকা অনুসারীদের আরও ২-৩টি মোটরসাইকেল এসে প্রাইভেট গাড়িটির গতি রোধ করে চালক মো. শাহিন হোসেনকে (৫৩) গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে পাশের আরিফের খাবার হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে ছাত্রদল সভাপতি ফাহাদ তাকে মারধর করেন। এ সময় সাজিদ নামের অপর এক বিএনপি কর্মী উত্তেজিত হয়ে চালককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করতে এগিয়ে যান। তখন অন্যরা তাকে নিবৃত করেন।
পরবর্তীতে চালকসহ গাড়িটি অদূরে পাবলিক মাঠের মুক্তমঞ্চের কাছে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং চালকের কাছ থেকে চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের বাসভবনে একটি সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। ঘটনার প্রায় ৩ ঘণ্টা পর প্রাইভেট কারটি বাউফল থানায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রাইভেট গাড়ির চালক শাহিন বলেন, “একটি মটরসাইকেল পিছন থেকে ওভারটেক করার সময় আমার গাড়িতে লাগিয়ে দেয়। আমি গাড়ি স্লো করে জিজ্ঞেস করলে, তিনিসহ আরও কয়েকজন আমাকে গাড়ি থেকে টেনে হিঁচরে একটি খাবার হোটেলে নিয়ে মারধর করে চাবি নিয়ে যায়। পরে জানলাম তিনি নাকি ছাত্রদলের সভাপতি। তার নাম আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ।”
এ ব্যাপারে প্রাইভেট গাড়ির মালিক ও কালাইয়া হাটের ইজারাদার মো. রাজিব অভিযোগ করে বলেন, “ছাত্রদল সভাপতি ফাহাদ ও তার স্ত্রী আমার চালকের সাথে অন্যায় করেছেন। হাটের টোল আদায়ের ৪৫ লাখ টাকার মধ্যে ৫-৬ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে বাকি ৩৯ লাখ টাকা গাড়িতেই রেখেছিলাম। ফাহাদ ও তার লোকজন গাড়ি আটকে সেই টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। আমি বর্তমানে থানায় অবস্থান করছি।” এই বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, “আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাউফল সরকারি কলেজ থেকে কালাইয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম। কবরস্থানের সামনে ওই কালো প্রাইভেট কারটি রং সাইডে এসে আমার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। আমি চালককে গাড়ি থামাতে বললে তিনি গাড়ি না থামিয়ে উল্টো জানালার গ্লাস খুলে চলন্ত অবস্থায় আমার হাত ধরে টান দেন। এ সময় পেছনে থাকা ছাত্রদলের কর্মীরা প্রাইভেট কারটি থামিয়ে পাবলিক মাঠের মুক্তমঞ্চের কাছে নিয়ে যায়। পরে শুনেছি গাড়িটি থানায় নেয়া হয়েছে। টাকা লুটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ ব্যাপারে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি আমি আগেই শুনেছি। পরে কালাইয়া হাটের ইজারাদার থানায় এসেছিল। কিন্তু কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









