জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা গুরুতর অপরাধ হলেও বহাল তবিয়তে চাকরির বেতন-ভাতা তুলছেন শার্শা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক। শিক্ষা মন্ত্রাণালয় ও এনটিআরসিএ বর্তমানে জালসনদধারীদের শনাক্ত করতে কঠোর অভিযান চালালেও তার কোন আঁচ লাগেনী শার্শা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন সহকারী শিক্ষক মোঃ বদিউজ্জামান খাঁন,শ্যামল কুমার ও জয়দেব কুমার বিশ্বাসের গায়।
অনুসন্ধানে দেখা যায় সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে অনিয়ম-দূর্নীতির আশ্রয়ে চাকরিরত তিন শিক্ষকের জালিয়াতির বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন গণমাধ্যমকর্মী শেখ সেলিম। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেন। স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য সরকারী বিধান অনুযায়ী অভিযুক্তদের অভিযোগ প্রমানিত হলে অবিলম্বে চাকরিচ্যুত,অর্থ ফেরত প্রদান,ফৌজদারি মামলা,সুবিধা বাতিল হওয়ায় ধুরুন্ধর ঐ তিন শিক্ষক অর্থবানিজ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আটকে দিচ্ছে।
শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেন দাখিলে বিলম্বের কারন জানতে চাইলে শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(অতিরিক্ত দায়িত্ব)এস এম সুলতান মাহমুদ বলেন বিষয়টি আমি অবগত নই তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যালয়
সূত্রে জানা যায়,আওয়ামী সরকারের আমলে নিয়োগ পান শিক্ষক বদিউজ্জামান খাঁন বাবু। সে সময় চাহিদামত প্রকৃত শিক্ষা সনদ গোপন রেখে জাল জালিয়াতির আদলে তিনি তার ভুয়া শিক্ষা সনদ দাখিল করেন যা বিদ্যালয়টি সরকারী করণের সময় ধরা পড়ে। ফলে ২০১৮ সালে শিক্ষক বদিউজ্জামানের এডহক নিয়োগ আটকে যায়।
এ সংক্রান্তে বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম বিগত ৭ ডিসেম্বর ২০২০ ইং তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,গাজীপুরে চিঠি ইস্যু করেন। একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় নিয়োজিত শিক্ষক শ্যামল কুমার রায় বিগত ২৩ অক্টোবর ২০১৩ সালে সহকারী শিক্ষক ( ধর্ম)পদে যোগদান করেন। বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন সনদ (এনটিআরসি) জাল করে চাকরির অভিযোগ থাকলেও সরকারী বেতন-ভাতা তুলছেন নিয়মিত। নির্ভরযোগ্য তথ্য সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক শ্যামলের দাখিলকৃত এনটিআরসিএ সনদের রোল নাম্বার ১১৯১১২৪৪ এবং পাশের সাল ২০০৮ যা যাচায়ে জালিয়াতির প্রমান মিলবে। ২০২৩ সালে এডহক নিয়োগ পেয়েই প্রতারণার মাধ্যমে শিক্ষক শ্যামল সরকারী বেতন-ভাতা ভোগ করছেন। শার্শা উপজেলাধীন পান্তাপাড়া গ্রামের নয়নচন্দ্রের ছেলে জয়দেব কুমার বিশ্বাসও একই পক্রিয়ায় বেসকারী শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ( এনটিআরসিএ) জালিয়াতি করে আওয়ামী সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে ২০১০ সালে নিয়োগ পেয়ে শার্শা সরকারি পাইলট মডেল বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক( ব্যবসায় শিক্ষা)হিসাবে শিক্ষকতা করছেন। তাহার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন নং-১২৩১০৯২৮ ও পাসের সাল ২০০৮।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান,জয়দেব তার বন্ধু অমলকৃষ্ণ মজুমদারের এনটিআরসিএ সনদ জাল করে জমা দিয়েছেন। সরকারি স্কুলের এই তিন শিক্ষকের প্রতারণা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ভুয়া সনদ ব্যবহার প্রসজ্ঞে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের মুঠো ফোনে কল করলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই সংযোগ কেটে দেওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যাইনী। জাল সনদে চাকরি শুধু রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারনাই নই শিক্ষাব্যবস্থার মান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও প্রভাব ফেলে। এ ঘটনায় অভিভাবক মহল ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজমান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









