উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক মানের মেগা ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অংশের ফ্লাইওভারের একটি গুরুত্বপূর্ণ গার্ডার ও সাইড রেলিংয়ের সংযোগস্থলে (জয়েন্ট) ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ততম এই মহাসড়কে মেগা প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই এমন ফাটল ও কংক্রিট ধসে পড়ার দৃশ্য সামনে আসায় চালক, যাত্রী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দেখা যায়, ফ্লাইওভারের সুরক্ষা বেষ্টনী বা সাইড ব্যারিয়ারের একটি বড় জয়েন্ট বরাবর ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে ফেটে গেছে। ফাটলটি এতটাই গভীর ও প্রশস্ত যে, ভেতরের কংক্রিট আলগা হয়ে ধসে পড়ছে এবং সংযোগস্থলের স্থায়িত্বকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।
ঝুঁকি নিয়েই চলছে দূরপাল্লার ভারী যানবাহন। ঝুঁকিপূর্ণ এই ফাটল থাকার পরও ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস এবং অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ভারী ট্রাক অবাধে চলাচল করছে। স্থানীয় চালকদের অভিযোগ, ভারী যানবাহন যখন এই ফাটল ধরা অংশের ওপর দিয়ে পার হয়, তখন পুরো ফ্লাইওভারে তীব্র কম্পন সৃষ্টি হয়।
এই রুটে চলাচলকারী এক বাস চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘মেগা প্রজেক্টের কাজ শেষ হতে না হতেই যদি ব্রিজের জয়েন্টে এমন মরণফাঁদ তৈরি হয়, তবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর এর স্থায়িত্ব কী হবে? দূর থেকে দ্রুত গতিতে আসার সময় হুট করে এই ফাটল দেখলে যেকোনো চালক নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন।’’
কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষোভ স্থানীয়দের
সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক-২) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন ইন্টারচেঞ্জটি উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছিল।
কিন্তু উদ্বোধনের আগেই এমন দৃশ্যমান ফাটল প্রকাশ পাওয়ায় নির্মাণকাজের গুণগত মান এবং তদারকি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করার মানসিকতা এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. সরফরাজ হোসেন তার দায় এয়ে প্রতিবেদককে মুঠো ফোনে বলেন, ‘‘কাজ শেষে উদ্বোধনের আগে সিমেন্ট ও বালু দিয়ে ঢালাই করা হবে। আপনাকে বিষয়টি ক্লিয়ার করতে আপনার সাথে আমার লোক যোগাযোগ করবে।’’
তবে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধু মৌখিক আশ্বাস বা জোড়াতালির মেরামত নয়; অতি দ্রুত বিশেষজ্ঞদের দিয়ে এই ফাটলের নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্থায়ী টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও মহাসড়ক ধসের মতো বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









