সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘‘সিলেট নগরীতে অপরাধ দমন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার পর তা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’’
রবিবার (১৪ জুন) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত ‘ট্রাফিক সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
সিসিক প্রশাসক জানান, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পূর্বে স্থাপিত ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরাগুলোর একটি বড় অংশ বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান ক্যামেরাগুলো দিয়ে অপরাধী শনাক্তকরণ ও কার্যকর নজরদারিতে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই বাস্তবতায় সিটি করপোরেশন একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি প্রকল্প গ্রহণ করছে।
নতুন এই প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘অপরাধীদের গতিবিধি আরও নিখুঁত ও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। অপরাধীদের অবস্থান, চলাচল ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষে (কন্ট্রোল রুম) পৌঁছে যাবে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অনেক সহজ এবং গতিশীল হবে।’’
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা সিলেটকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’’
সিলেটের সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘‘রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি দেশবাসীর মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আমরা আশা করি র্যাব সদস্য ইমন হত্যা মামলা, শিশু ফাহিমা হত্যা মামলাসহ সিলেটের অন্যান্য আলোচিত মামলাগুলোর বিচারও দ্রুত সম্পন্ন হবে।’’
এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং অপরাধীরা আইনের প্রতি আরও ভীত ও শ্রদ্ধাশীল হবে।’’
১০ লাখ মানুষের এই নগরীতে শুধু পুলিশের পক্ষে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রশাসক নিরাপদ সড়ক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নগর গড়তে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি পুলিশকে আরও মানবিক ও জনবান্ধব আচরণ করার অনুরোধ করেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ্ত রায়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, অতিরিক্ত কমিশনার এনামুল হক, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ফুটপাত ব্যবহার করা, ফুটপাত না থাকলে রাস্তার ডান প্রান্ত দিয়ে হাঁটা, ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার, এবং চলন্ত যানবাহনে ওঠা-নামা থেকে বিরত থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক নিয়মগুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীতে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। এই 'ট্রাফিক সপ্তাহ' আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









