প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করতে মৌলভীবাজার সফরে যাচ্ছেন বুধবার (১৭ জুন)। তার এই সফরকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
জেলা শহরের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। সার্কিট হাউস, জেলা জজ আদালত, মৌলভীবাজার পৌরসভা ভবনসহ সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা সজ্জিত করার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে শহরের একটি ও শ্রীমঙ্গলের একটি মাঠ প্রস্তুত হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন। মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। তার এ অনুষ্ঠান ঘিরে এই দুই স্থানে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫ জন ও রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২ জন উপকারভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। স্বচ্ছতা রাখতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোতে উপকারভোগী চূড়ান্ত করতে একাধিকবার যাচাইবাছাই করা হয়।
সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ দলীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের কাজের তদারকি করছেন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে।
সরেজমিনে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির ফলে মাঠে কাঁদার সৃষ্টি হয়েছে। কাঁদামুক্ত করতে ট্রাকে করে বালু এনে মাঠে ফেলা হচ্ছে। বাঁশ বেঁধে মঞ্চ তৈরির কাজ করছেন কিছু শ্রমিক। ইতোমধ্যে মাঠের চারপাশের ঝোপঝাড়, আগাছা ও গাছের বাড়তি ডাল-পালা ছেঁটে ফেলা হয়েছে। মাঠের যে প্রান্ত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করবেন সেদিকে ইট-সলিং করে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের প্রথম সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপি প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
মাঠে কথা হয় সালিক আহমেদ এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে আমরা খুবই খুশি। তিনি যদি মৌলভীবাজারে একটি মেডিকেল কলেজ দেন তাহলে আমাদের কষ্ট করে সিলেটে যেতে হবে না চিকিৎসার জন্য। আমাদের খরচ কম হবে। অল্প টাকায় আমরা চিকিৎসা পাব।’’
ওয়াহিদ নামের আরেকজন বলেন, ‘‘মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের দাবি হচ্ছে শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু করা। প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের মানুষের এই দাবি আশা করি প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করবেন।’’
শেখ বোরহান (রহ.) ইসলামী সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার আগমনকে আমরা স্বাগত জানাই। পাশাপাশি মৌলভীবাজারে সরকারি মেডিকেল প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন চাই। এছাড়াও আমরা জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৫ দফা দাবি তুলে ধরতে চাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে।’’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। সবাই অতি আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেওয়ার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘মৌলভীবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা মেডিকেল কলেজসহ যে দাবি-দাওয়া আছে, আশা করি সেগুলো পূরণ হবে। রাজনগরেরও কিছু অসম্পূর্ণ কাজ বাকি আছে, সেগুলোও বাস্তবায়ন হবে।’’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাবেল বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স। আমরা তাদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছি। নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা সব কাজ শেষ করতে পারবো।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









