ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাসুদ করিম বাবু (৩০) নামে এক বিদ্যুৎকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সহকর্মীর এ অবস্থা দেখে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন খাইরুল মিয়া নামে আরেক বিদ্যুৎকর্মী।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে এ ঘটনায় শত শত স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ মিছিল করে। নিহত মাসুদ উপজেলার পূর্ব ভালুকা এলাকার মৃত আব্দুস সালামের বড় ছেলে। এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও বিদ্যুৎ বিভাগের চরম গাফিলতি আখ্যা দিয়ে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের বালুয়াপাড়া মোড়ে বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের জন্য খুঁটিতে ওঠেন মাসুদ করিম বাবু। কাজ করার একপর্যায়ে লাইন বন্ধ থাকার পরও হঠাৎ তিনি বিদ্যুতায়িত হন এবং খুঁটি থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাসুদের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার সময় মাসুদের সঙ্গেই কাজ করছিলেন বিদ্যুৎকর্মী মো. খায়রুল মিয়া। চোখের সামনে সহকর্মীকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে নিচে পড়ে যেতে দেখে তিনি স্ট্রোক করেন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফিডার বন্ধ থাকার পরও কীভাবে সচল লাইনের মতো ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলো এই প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ গৌরীপুরবাসী রাস্তায় নেমে আসেন।
এই ঘটনাকে গৌরীপুর বিদ্যুৎ বিভাগের ষড়যন্ত্রে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন এবং এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানানো হয় মিছিল থেকে। এ সময় তারা গৌরীপুর থানায় অবস্থান কর্মসূচি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দেন।
গৌরীপুর পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী লিটন মজুমদার বলেন, ‘‘আমাদের অচিন্ত্যপুর ফিডার ও খেলারমাঠ ফিডার বন্ধ ছিল। তবে ১১ হাজার ভোল্টের কোনো একটি লাইনে সম্ভবত লিকেজের কারণে বিদ্যুতের ‘ফিডব্যাক’ হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’’
নিহত মাসুদ পিডিবির নিয়মিত কর্মী না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে ১১ হাজার ভোল্টের মতো ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে কাজ করতে দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুটা দায় এড়ানোর সুরে বলেন, ‘‘নিহত মাসুদ করিম বাবু আমাদের স্থায়ী বা নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন না। তবে আমাদের নিজস্ব লাইনম্যান না থাকলে প্রয়োজনের সময় তারা লাইনে কাজ করতেন।’’
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া ও অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









