বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী পাতারহাট বন্দরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে চালানো উচ্ছেদ অভিযানে দখলমুক্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখা অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ায় পাতারহাট বন্দরে ফিরে এসেছে শৃঙ্খলা। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেহেন্দিগঞ্জের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পাতারহাটের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল কিছু ভাসমান ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ী। বিশেষ করে, পাতারহাট ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির দুই পাশ সম্পূর্ণ দখলে চলে যাওয়ায় রাস্তাটি সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। এর ফলে প্রতিদিন তীব্র যানজট, জনদুর্ভোগ এবং জরুরি রোগী পরিবহনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছিল। পথচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আজ মাঠে নামে প্রশাসন।
বিশেষ এই উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: রিয়াজুর রহমান। অভিযান চলাকালে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্জ্জিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিন উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।
এছাড়াও অভিযানে মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, তহশিলদার, সার্ভেয়ার, কানুনগো এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অংশ নেন।
অভিযান শেষে মেহেন্দিগঞ্জের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: রিয়াজুর রহমান বলেন, “কয়েকজন মানুষের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য উপজেলার হাজারো মানুষের চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে না। অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে যারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অ্যাকশন ও জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। ”
তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং যানজট নিরসনের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও নিরাপদ নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
উচ্ছেদ অভিযান শেষে দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ ও সংকুচিত সড়ক অবমুক্ত হতে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এই পদক্ষেপকে জনস্বার্থে প্রশাসনের একটি সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে উচ্ছেদ করা জায়গাগুলো যেন আবারও প্রভাবশালী ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দখলে চলে না যায়, সেজন্য প্রশাসনের নিয়মিত ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









