বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক নাজমুল হোসেন (২৩) হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মিরাজ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর জাগুয়া নতুন হাট এলাকার হাওলাদার বাড়িতে এই অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে দীর্ঘ নিখোঁজের পর উদ্ধার হওয়া নাজমুল হত্যার মূল সন্দেহভাজন মিরাজ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পরপরই শত শত স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা মিরাজের বসতবাড়িতে চড়াও হন এবং একপর্যায়ে অগ্নিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরআগে, সোমবার (১৫ জুন) নগরীর কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড় থেকে ভাসমান ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অটোরিকশাচালক নাজমুল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নাজমুল বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রশিদ মোল্লার সন্তান।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নাজমুল। দুপুর থেকে তার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেন।
ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন রবিবার (১৪ জুন) বাবা আব্দুল রশিদ মোল্লা বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পরদিনই কালিজিরা নদী থেকে উদ্ধার হয় নাজমুলের নিথর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অটোরিকশাটি ছিনতাই করার উদ্দেশেই নাজমুলকে শ্বাসরোধ বা আঘাত করে হত্যার পর নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আব্দুল হান্নান বলেন, ‘‘হত্যাকাণ্ডের শিকার নাজমুলের অটোরিকশা উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ তৎপর ছিল। সেই সূত্র ধরেই মিরাজকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আমরা রিকশাচালক হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। একই সাথে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে, তাদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









