মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় নিখোঁজের ছয় দিন পর স্কুলছাত্রী মারিয়ার (১৪) খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে নিহতের মা বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সিঙ্গাইর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার পর স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের এক ছাত্র, তার পরিবারের সদস্য এবং দুই শিক্ষকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্র (১৬), তার মা, বোন, স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল হোসেন, মাসুদ রানা ও সুজন হোসেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম এবং আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় একটি শ্রেণিকক্ষে ওই ছাত্রের সঙ্গে মারিয়ার আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীকে স্থানান্তর সনদ (টিসি) দেয়।
সেদিনই মারিয়া নিজের মুঠোফোন রেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সিঙ্গাইর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এর ছয় দিন পর রবিবার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার চন্দননগর এলাকায় একটি কবরস্থানের পাশের ঝোপ থেকে তার অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মরদেহের ওপরের অংশ একটি গাছের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল এবং কোমরের নিচের অংশটি পাশে পড়ে ছিল।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ওই ছাত্রের গ্রামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম এদিনকে বলেন, “গ্রেপ্তার স্কুলছাত্রকে কিশোর আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য সাত আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়। তবে রিমান্ডের শুনানি না হওয়ায় আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









