ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মুসলিমা খাতুন দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার পরেও সংস্লিষ্ট কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় শিক্ষিকা মুসলিমা খাতুন মেদুয়ারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন।
মুসলিমার স্বামী মেদুয়ারী গ্রামের বাসিন্দা। রুবেল মিয়া সাইপ্রাস প্রবাসী, স্বামী প্রবাসে থাকার সূত্র ধরে সুযোগ পেয়ে তার স্রী মুসলিমা খাতুন সাইপ্রাস চলে যায়। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসা ছুটি নিয়ে যায় এর পর থেকে তিনি বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।
কয়েক মাস ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও তার চাকরি বহাল রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে দুই শত তিন জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আর শিক্ষক রয়েছে আট জন তাদের মধ্যে ২ জন অনুপস্থিত একজন মেডিকেল লিভ, আরেকজন বিনা অনুমতিতে বিদেশ চলে গেছেন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য।
২০২০ সালে টানা আটমাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সভাপতি কে ম্যানেজ করে বেতন ভাতা বোনাস উত্তোলন করেন। এবারেও তিনি পুর্বের মত বেতন ভাতা উত্তোলন করতে চাইলে বাদ সাজেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শামসুল হক।
পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, শিক্ষিকার অনুপস্থিতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্থানীয় মোফাজ্জল হোসেন জানান শিক্ষিকা না থাকায় স্কুলে ছেলে মেয়েদের পড়া লেখায় সমস্যা হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সহকারী শিক্ষিকা মুসলিমা খাতুনের অনুপস্থিতের বিষয়টি লিখিত আকারে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্যার কে অবগত করেছি।
১৩ নং মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুল হক জানান সহকারি শিক্ষিকা মুসলিমা খাতুন গত ডিসেম্বরে এক মাসের ছুটি নেয় কিন্তু সে এখনো যোগদান করেনি বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কে জানানো হয়েছে। এর আগেও সে বিনা অনুমতিতে প্রায় আট মাস স্কুলে অনুপস্থিত থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবে বেতন ভাতা উত্তোলন করেন। এবারেও পুর্বের মত বেতন ভাতা উত্তোলনের চেষ্টা করলে আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কে বিষয় টি লিখিত ভাবে অবহিত করেছি।
সরেজমিনে স্কুলে গিয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রধান শিক্ষক সহ সহকারী শিক্ষকরা মুসলিমা খাতুন বিদেশ চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে অনুপস্থিত সহকারী শিক্ষিকা মুসলিমা খাতুনের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঐ ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ ইলিয়াস কাঞ্চন , সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক কতৃক লিখিত আবেদন পেয়েছি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এ কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান জানান, তাকে কারন দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে, কিন্তু নোটিশের কোন জবাব পাওয়া যায়নি। শুনেছি তিনি দেশের বাহিরে রয়েছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী সর্বোচ্চ ৬০ দিন অনুপস্থিত থাকলে তাকে পলাতক হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









