শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষ গড়ার এক মহৎ দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে ৩৬ বছর পালন শেষে অবসরে গেলেন দীঘিনালা উপজেলার হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক মো. আবু শামা। তার বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেন ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সময়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একত্রিত হন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব প্রিয় বড়ুয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জাহিদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আবু শামার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নানা দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, যিনি হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার হাত ধরে গড়ে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী আজ সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যখন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করেন। অনেকেই বলেন, কঠোর শাসনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল একজন স্নেহশীল অভিভাবকের হৃদয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা শিক্ষক আবু শামাকে ছাদখোলা একটি গাড়িতে সম্মানের সঙ্গে বসিয়ে বিদায় জানান। পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ তাকে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করিয়ে নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেন। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং শিক্ষকের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম জাহিদ বলেন, একজন শিক্ষক কখনো কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখান, পথ দেখান এবং একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আবু শামা স্যার আমাদের জীবনের সেই আলোকবর্তিকা, যার শিক্ষা ও আদর্শ আজও আমাদের পথ দেখায়।
তিনি আরো বলেন, আজকের এই বিদায় কোনো বিচ্ছেদ নয়; এটি একজন সম্মানিত শিক্ষকের কর্মময় জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এদিকে শিক্ষকের ছেলে রানা তুহিন বলেন, আমার বাবা তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করেছেন। সততা, দায়িত্ববোধ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একজন সন্তানের জন্য এর চেয়ে বড় গর্ব আর কিছু হতে পারে না।
প্রধান শিক্ষক দেব প্রিয় বড়ুয়ার বলেন, মো. আবু শামা স্যার ৩৬ বছর ধরে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অবদান এই বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীরা আজীবন স্মরণ রাখবে। তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক। আমরা তার সুস্থ, সুন্দর ও শান্তিময় অবসর জীবন কামনা করছি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক আবু শামার অবদান শুধু একটি বিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি বহু শিক্ষার্থীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। তাই তার বিদায়কে সম্মান ও ভালোবাসার মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতেই এই আয়োজন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









