কীর্তনখোলা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের শায়েস্তাবাদসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বছরের পর বছর নদীর আগ্রাসনে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হলেও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে বরিশাল নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে কীর্তনখোলা নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আব্দুর রহমান বিশ্বাস স্মৃতি পরিষদ।
সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কীর্তনখোলা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে শায়েস্তাবাদ এলাকার বহু পরিবার ইতোমধ্যে তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে মাঝে মাঝে জিও ব্যাগ ফেলা বা অস্থায়ী কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো কার্যকর ফল দিচ্ছে না। ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে নদীভাঙন চললেও স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অসংখ্য পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একটি ঘর নির্মাণ করলেও সেটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, দ্রুত কীর্তনখোলা নদী শাসনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক।’’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক বলেন, ‘‘শায়েস্তাবাদ অঞ্চলের নদী ভাঙন এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’’
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি র্যালি বের করেন। র্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে এসে শেষ হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









