কৃষক আব্দুর রহিম। চরফ্যাশনের জিন্নাগড়ের চকবাজার এলাকার অদম্য যুবক। পরিশ্রমী এই যুবক নিজ এলাকায় বোম্বাই মরিচের বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে পুরো উপজেলায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
মশলা জাতীয় খাবারের মধ্যে অন্যতন উপাদেয় মশলা হলো মরিচ। নানা জাতের মরিচের মধ্য ঝালে-ঘ্রাণে মরিচের বোম্বাই জাত হলো অতুলনীয়। শখের বসে খাওয়ার জন্য গৃহস্থ ঘরের আঙিনা, উঠোনে বা বাসার ছাঁদে রোপন করা বোম্বাই মরিচ এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ভোলার চরফ্যাশনে। কেজি বা মণ ধরে বিক্রি হচ্ছে ঢাকা শহরের পাইকারদের কাছে। এ মরিচ চাষে কৃষকের ভাগ্য এখন পরিবর্তন হচ্ছে। শাক সবজির সাথে খাওয়ার মরিচ এখন কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের আর্থিক চালিকাশক্তি।
কৃষি অফিসসহ উপজেলার কৃষকদের মুখে মুখে এখন আব্দুর রহিমের নাম। চলতি বছরেই ২৫ লাখ টাকার বোম্বাই মরিচ বিক্রি করেছেন তিনি। মাত্র ৫ একর জমিতে বোম্বাই মরিচ চাষ করেছেন। বিপুল পরিমাণ মরিচ উৎপাদন হওয়ায় অল্প জমি থেকেই কল্পনাতীত টাকা আয় করেন রহিম।
আবদুর রহিম জানান, তার সফলতা দেখে অনেকেই বোম্বাই মরিচ চাষে ঝুঁকছেন। কিন্তু তারা সঠিক পরিচর্যা করতে না পারায় অতটা সফলতা পাচ্ছেন না। তিনি জানান, বোম্বাই মরিচ চাষে সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে খুব অল্প খরচে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে মরিচ চাষে তিনি শতভাগ সফল হয়েছেন। তার সফলতার গল্প শুনতে খামারবাড়ি ভোলার কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছুটে এসেছেন চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাজ গ্রামে।
এ মরিচের চাহিদা দেশের প্রতিটি হোটেল রেস্তোরাঁয় ব্যাপকভাবে রয়েছে। আবদুর রহিমের উৎপাদিত বোম্বাই মরিচ সাইজে বড় ও কীটনাশক কম ব্যবহার করায় স্থানীয় উপজেলা শহরের গণ্ডি পেড়িয়ে রাজধানীর অভিজাত হোটেল রেস্তোরাতেও সুনাম কুড়িয়েছে। সেখানকার পাইকারি বিক্রেতারা সরাসরি তার কাছ থেকে মরিচ কিনে থাকেন। প্রতি কেজি মরিচ ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা ধরে কিনেন। দু'হাত পাশ ও একশ হাত লম্বা দূরত্বের জায়গায় প্রায় একশ কেজি বোম্বে মরিচ উৎপাদন হয়। একশ কেজি মরিচের দাম ৮০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা। সর্জান পদ্ধতিতে মরিচ চাষ হওয়ায় পাশাপাশা একই জমিতে চাষ করা হয় মাছ। রহিম উৎপাদিত বোম্বাই মরিচের জাত ঘৃত কাঞ্চন যা স্থানীয়ভাবে ঘৃতনালী নামে পরিচিত।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ করে আসছেন। বোম্বে মরিচে লাভ ভাল হওয়ায় সফল চাষী আবদুর রহিম থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজে ১৬ শতাংশ জমিতে বোম্বাই মরিচ চাষ করেছেন। তারাও মরিচ বিক্রিতে তুলনামূলক লাভবান হয়েছেন। আগামী বছর বর্ধিতভাবে বোম্বাই মরিচ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, আবদুর রহিম চরফ্যাশনের একজন উদ্যমী কৃষক এবং কৃষি বিভাগের এসএসিপি প্রকল্পের একজন উপকারভোগী। তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিসহ বোম্বাই মরিচ চাষ করে আসছেন। তবে তিনি সফলতা পেয়েছেন সর্জান পদ্ধতিতে বোম্বাই মরিচ চাষ করে। প্রতিবছরই তিনি বোম্বাই মরিচ চাষ করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেন। এবছরও ৫ একর জমিতে ২০ হাজার বোম্বাই মরিচ গাছ লাগিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বিক্রি করেছেন। মজার ব্যাপার হলো এই বোম্বাই মরিচ চাষে উৎপাদন খরচ অনেক কম বিধায় লাভ অনেক বেশি। কৃষি বিভাগ তাকে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বোম্বাই চাষে কারিগরী সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









