গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খনন করায় একটি ব্যস্ততম পাকা রাস্তার সিংহভাগ ধসে পড়েছে। এতে রাস্তাটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসী।
পলাশবাড়ি উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পুটিমারি চৌরাস্তা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বাজারের পাশেই নিজের একটি জমিতে বাড়ি করার উদ্দেশ্যে (কলাম বা বিম নির্মাণের জন্য) মাটি খনন করেন স্থানীয় আব্দুল আজিজের ছেলে আশরাফুল ইসলাম। কোনো প্রকার নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বা গাইড ওয়াল ছাড়াই রাস্তার একদম ঘেঁষে এই গভীর খননকাজ পরিচালনা করা হয়।
এরই ফলশ্রুতিতে রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে পাকা সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পার্শ্ববর্তী গভীর গর্তে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে রাস্তাটির অর্ধেকেরও বেশি অংশজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং বাকি অংশটুকুও ঝুলে রয়েছে।
পুটিমারি চৌরাস্তা বাজারটি এলাকার একটি অন্যতম ব্যস্ত অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। রাস্তাটি ধসে যাওয়ার পর থেকে বর্তমানে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কোনো নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে এভাবে রাস্তার কোল ঘেঁষে গভীর গর্ত করা মোটেও ঠিক হয়নি। এখন পুরো রাস্তাটি ধসে যাওয়ার উপক্রম। রাতের অন্ধকারে এই রাস্তা দিয়ে চলতে গেলে যেকোনো সময় মানুষ বা গাড়ি নিচে পড়ে গিয়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। রাস্তাটি এখন আমাদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।"
ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি ও জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন ক্ষতি করায় ক্ষুব্ধ সচেতন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, অনতিবিলম্বে রাস্তাটির ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হোক। তা না হলে যেকোনো মুহূর্তে পুরো সড়কটি ধসে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, ‘‘আমি বিষয়টি জেনেছি আমি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে অবগত করেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্ধতন কর্মকর্তারা।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









